দিল্লি মেট্রোয় বয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত সিটে বসাকে কেন্দ্র করে বচসা। আর সেই বচসা থেকেই মারধরের অভিযোগ। মৃত্যু হল ৪৮ বছরের পবন শর্মার। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সঞ্জয় প্রতাপ সিং এবং তাঁর আইনজীবী ছেলে সিদ্ধার্থ সিং। দু’জনকেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর পর ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পবনের মা দুর্গা দেবী। তাঁর অভিযোগ, মেট্রোর কামরা যাত্রীতে ভর্তি থাকলেও কেউ তাঁর ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। (Delhi Metro Seat Dispute)
সংরক্ষিত সিট নিয়ে বচসা
ঘটনাটি গত ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবারের। সেদিন মায়ের সঙ্গে দ্বারকা থেকে যমুনা বিহারের দিকে যাচ্ছিলেন পবন। তাঁরা মেট্রোয় বয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত সিটে বসেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ মান্ডি হাউস স্টেশন থেকে মেট্রোয় ওঠেন সঞ্জয় প্রতাপ সিং এবং তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থ।
দুর্গা দেবীর অভিযোগ, আসনে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে পবনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। (Delhi Metro Seat Dispute) তাঁর দাবি, প্রথমে সঞ্জয় পবনকে মারেন। কী কারণে তাঁকে মারা হচ্ছে, তা বুঝতে না পেরে হতভম্ব হয়ে যান পবন। এরপর সিদ্ধার্থ তাঁর ছেলের গলা চেপে ধরে বুকে ঘুষি মারতে থাকেন। এই মারধরের ফলেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গা দেবী।
ভিড়ের মধ্যেও এগিয়ে এলেন না কেউ!
দুর্গা দেবীর কথায়, দীর্ঘ পথ যেতে হবে বলে তাঁরা চুপচাপ বসেছিলেন। আচমকা এমন ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা ভাবতেও পারেননি। মেট্রোর কামরায় অনেক যাত্রী ছিলেন। কিন্তু কেউই তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ পবনের মায়ের। সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশনে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। (Delhi Metro Seat Dispute)
কে এই সঞ্জয় প্রতাপ সিং?
সঞ্জয় প্রতাপ সিং ১৯৮৪ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক। তিনি এজিএমইউটি ক্যাডারের আধিকারিক ছিলেন। এই ক্যাডারের আওতায় অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া, মিজোরাম-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ৪৪-এ থাকেন তিনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন সঞ্জয়। দিল্লি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাজ করেছেন। তাঁর কর্মজীবনে বিভাগীয় পদক্ষেপ এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরেও বিতর্ক ছিল। তবে সেই বিষয়গুলি বর্তমান মামলার থেকে আলাদা। (Delhi Metro Seat Dispute)
এখন পবন শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। কীভাবে একটি সাধারণ আসন নিয়ে বিবাদ প্রাণঘাতী হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












2 thoughts on “দিল্লি মেট্রোয় যাত্রীকে মারধর করে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার বাবা ও আইনজীবী ছেলে”
Comments are closed.