দিল্লি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ঝাঁ-চকচকে স্যাটেলাইট সিটি গুরুগ্রাম এ বার কার্যত শীতের রেকর্ড বইয়ে নাম লেখাল (Gurugram Temperature)। আধুনিক অফিস, অট্টালিকা আর কর্পোরেট সংস্কৃতির শহর গুরুগ্রামকে এই চেহারায় আগে কেউ দেখেনি। চলতি শীতের শুরুতেই শহরের একাধিক অংশে পাতলা বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে গাড়ি, ঘাসজমি ও খোলা জায়গা— যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর।
হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গুরুগ্রামে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে শূন্যের নীচে। কোথাও কোথাও পারদ ছুঁয়েছে মাইনাস ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদদের দাবি, গত প্রায় ৫০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এমন তীব্র শীত গুরুগ্রাম দেখেনি। অতীতে মাত্র কয়েকবার এই শহরে শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল— ১৯৬৬, ১৯৭০ এবং ১৯৭৯ সালে। এবারের পরিস্থিতি সেই সব রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
মাঘের শুরুতেই কি বিদায় নিচ্ছে শীত? বাড়ছে তাপমাত্রা, কুয়াশায় সতর্কতা!
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই মুহূর্তে গুরুগ্রামের তাপমাত্রা অনেক জনপ্রিয় শৈলশহরের থেকেও কম। দিল্লিতে পারদ ৩ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও, সিমলায় তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি, প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে ‘পাহাড়ের থেকেও ঠান্ডা সমভূমি’— এমন উল্টো ছবি সামনে এসেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, হিমালয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী পশ্চিমা ঝঞ্ঝা ও উত্তর-পশ্চিমী ঠান্ডা বাতাসের জেরেই এই বিরল শৈত্যপ্রবাহ। পরিষ্কার আকাশের কারণে রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে দ্রুত তাপ বিকিরণ হয়ে যাচ্ছে, ফলে তাপমাত্রা হু হু করে নামছে। অন্যদিকে পাহাড়ে মেঘ থাকায় সেখানে তাপ কিছুটা আটকে যাচ্ছে।
তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর। স্বাস্থ্য দফতর বয়স্ক ও শিশুদের দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডায় না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সব মিলিয়ে, অফিস শহর গুরুগ্রাম এ বার রীতিমতো ‘শীতের শহর’ হয়ে উঠেছে।
Outskirts of Gurugram recorded a low of -1°C with widespread ground frost observed in open areas.Severe cold wave currently gripping North India, including Delhi-NCR, Haryana, Punjab, and Rajasthan.#gurugram #delhincr #coldwave #temperature #winterseason #trending #latest pic.twitter.com/cQtEvKKqER
— Manchh (@Manchh_Official) January 12, 2026









