Site icon Hindustan News Point

হরমুজে অচলাবস্থা, তবু চলেছে ভারতীয় জাহাজ! সরবরাহ সচল রাখতে ‘গোপন কৌশল’ কেন্দ্রের

India's Shipping Strategy

ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়েই একের পর এক জাহাজ যা ভারতের সঙ্গে যুক্ত তা এই পথ পেরিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এই কাজ? শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উঠে এল (India’s Shipping Strategy) সেই কৌশলের কিছুটা আভাস।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করে। ওই দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলি হামলার জবাবে ইরান একাধিক পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনও বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা নিরাপত্তার কারণে এই রুট এড়িয়ে চলেছে। (India’s Shipping Strategy) এর মধ্যেই ভারত জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

(India’s Shipping Strategy) শুক্রবার এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের শিপিং ডিরেক্টর ওপেশ কুমার শর্মা জানান, বর্তমানে হরমুজ অঞ্চলে প্রায় ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, একটি কেমিক্যাল বা প্রোডাক্ট ট্যাঙ্কার, তিনটি কনটেনার জাহাজ, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজার।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

তিনি জানান, ভারতীয় জাহাজগুলির চলাচল নিশ্চিত করতে কেন্দ্র একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সেই সমন্বয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। (India’s Shipping Strategy) ওপেশ কুমার শর্মার কথায়, “ভারত, ইরান এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হয়, তা নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কোন জাহাজকে আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, সার মন্ত্রক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

(India’s Shipping Strategy) সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ‘শিবালিক’, ‘নন্দা দেবী’, ‘জগ লাড়কি’, ‘পাইন গ্যাস’, ‘জগ বসন্ত’, ‘বিডব্লিউ টায়ার’, ‘বিডব্লিউ এলম’ এবং ‘গ্রিন সানভি’-সহ একাধিক ভারত-সংযুক্ত জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

এদিন বৈঠকে জাহাজের অবস্থান সংক্রান্ত পাবলিক ট্র্যাকিং ডেটা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক অ্যাপের মাধ্যমে জাহাজের গতিবিধি নজরদারি করা সম্ভব। এই তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, জানতে চাওয়া হলে শর্মা বলেন, “এগুলি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম এবং যে কেউ সাবস্ক্রিপশন নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। কোনও তথ্য কীভাবে ব্যবহার হবে, তা ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে।”

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, ২০২৮-এর মধ্যে দেশের সমস্ত কর্মরত শিক্ষকের জন্য TET বাধ্যতামূলক

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের অব্যাহত চলাচল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। ফলে এই সংকটের মধ্যেও সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলেও, কেন্দ্রের সমন্বিত কৌশল ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


Exit mobile version