লোহার গাড়ি, চাকা হিসেবে লাগানো চারটে বল বেয়ারিং, কাঁধে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বসে আছেন এক ব্যক্তি, তিনি ভিখারি। এলাকা ইন্দোরের সরাফা বাজার (Indore Beggar Crorepati)। আলো-ঝলমলে দোকান, ভিড়ের কোলাহল, রোজগারের তাড়াহুড়ো, এই ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে বসে রয়েছেন তিনি। হাত দু’টি ঢোকানো জুতোর ভিতরে। না, তিনি কারও কাছে হাত পাততেন না। শুধু বসে থাকতেন। মানুষের চোখেই জন্ম নিত দয়া। কেউ একটা কয়েন ফেলত, কেউ নোট। সবাই ভাবত—এক অসহায়, অসুস্থ মানুষ বাঁচার লড়াই লড়ছেন।
এই মানুষটির নাম মঙ্গলিলাল (Indore Beggar Crorepati)। নিত্যযাত্রীদের কাছে পরিচিত মুখ। প্রত্যেকেই কম বেশি মঙ্গলিলালকে অর্থ সাহায্য করেছেন। কিন্তু শনিবার রাতে সেই পরিচিত ছবিটা ভেঙে গেল। নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের অ্যান্টি-বেগিং অভিযানে ধরা পড়লেন মঙ্গলিলাল। প্রথমে আধিকারিকরাও ভেবেছিলেন, আর পাঁচটা সাধারণ কেস। কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত এক ভবঘুরে। কিন্তু তদন্ত যত এগোল, ততই বিস্ময়ের পর বিস্ময়।
যে মানুষটিকে সবাই গরিব ভেবে দান করতেন, তিনি আদতে কোটিপতি। (Indore Beggar Crorepati)
জন্মের ৪১ বছর পর জন্মদাত্রীর খোঁজে ভারতে ফেরা, তিন দিনের নবজাতক আজ ইউরোপের জননেতা
এতেই অবাক হয়ে গেলেন? অবাক হবেন না, রয়েছে আরও কিছু তথ্য। মঙ্গলিলালের রয়েছে তিনটে বাড়ি, তার মধ্যে একটি তিনতলা। রয়েছে তিনটি অটো, যেগুলি ভাড়ায় চলে। রয়েছে একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি, সেটিও ভাড়ায় দেওয়া। এমনকি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সরকারি প্রকল্পে একটি বাড়িও পেয়েছেন, যদিও আগে থেকেই তাঁর একাধিক সম্পত্তি ছিল। আর পুরোটার সূত্রপাত ভিক্ষা থেকে।
মঙ্গলিলালের প্রতিদিনের রুটিন কী? তিনি দিনে সরাফায় বসে ভিক্ষা করেন। রোজ ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়ে যায়। কিন্তু আসল খেলা শুরু হত সন্ধ্যার পরে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভিক্ষায় পাওয়া টাকা দিয়েই তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের সুদে টাকা ধার দিতেন। প্রতিদিন রাতে নিজেই ঘুরে ঘুরে সুদ তুলতেন। আনুমানিক ৪-৫ লক্ষ টাকা বাজারে খাটানো ছিল তাঁর। দিনে রোজগার? ১ থেকে ২ হাজার টাকা। অর্থাৎ, কী দাঁড়াল? No investment, only return.
যে মানুষটিকে দেখে মন গলে যেত, সেই মানুষটাই আসলে হিসেবের খাতা খুলে বসতেন রাত নামলেই। সরাফার দোকানের ঝাঁপ নামার সঙ্গে সঙ্গে ফিসফাস শুরু হয়েছে—“আমরা যাকে কয়েন দিতাম, সে-ই আমাদের টাকা ধার দিত!” (Indore Beggar Crorepati)
মঙ্গলিলাল এখন আশ্রমে। তদন্ত চলছে। কিন্তু তাঁর গল্প ইন্দোরকে শিখিয়ে দিল, সব অসহায়তা যেমন সত্যি নয়, তেমনই সব দয়াও সব সময় নিঃস্বার্থ হয় না।









