পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্তর হেঁশেলে। সরকার একধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বাড়িয়েছে রান্নার গ্যাসের। বাদ যায়নি বাণিজ্যিক এলপিজিও। এক লাফে ১১১৪.৫ টাকার ঘর ছুঁয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস। মূল্যবৃদ্ধির ফলে কোন রাজ্যে কত হয়েছে নতুন দাম, চলুন দেখেনি। (LPG price)
উল্লেখ্য গত বছর এপ্রিলে শেষ দাম বেড়েছিল ১৪. ২ কেজি রান্নার গ্যাসের। অর্থাৎ ১১ মাসের ব্যবধানে ফের দামের মূল্যবৃদ্ধি। একবারে বেড়েছে ৬০ টাকা।
কলকাতায় রান্নার গ্যাসের নতুন দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা। পাশাপাশি দিল্লিতে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৩ টাকা, মুম্বইতে ৯১২ এবং চেন্নাইতে ৯২৮ টাকা হয়েছে গ্যাসের নতুন দাম। ৭ মার্চ থেকেই কার্যকর করা হয় এই নতুন দাম।
অন্যদিকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজির নতুন দাম হয়েছে কলকাতায় ১,৯৮৮ টাকা, দিল্লিতে ১,৮৮৩ টাকা, মুম্বইতে ১,৮৩৫ টাকা এবং চেন্নাইতে ২,০৪৩ টাকা। তবে দরিদ্র শ্রেণীর সুবিধার্থে চালু থাকা উজ্জ্বলা গ্যাসের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।
একেই মূল্যবৃদ্ধির কারণে জেরবার হতে হচ্ছিল আম জনতাকে। তারউপর আবার জীবনের সবচেয়ে বেশি নিত্যপ্রয়োজনী বস্তুর দাম বাড়ল। প্রায় যাকে বলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। মধ্যবিত্ত থেকে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবার কপালে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। (LPG price)
LPG Crisis: যুদ্ধ আবহে গ্যাসের ‘আকাল’, বদলাচ্ছে রেস্তোরাঁর মেনু, উৎকণ্ঠায় মালিকেরা
ভারতের রেস্তোরাঁ, ক্যাফে অর্থাৎ খাদ্য শিল্পে ইতিমধ্যে গ্যাসের সংকট লক্ষ করা যাচ্ছে। হাসপাতাল থেকে স্কুল এইসব ক্ষেত্রগুলিতেও সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কারণে প্রভাব পড়তে পারে সুইগি, জোম্যাটোর মতো অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার কর্মীদের উপরেও।
ইতিমধ্যেই কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই প্রভৃতি শহরের রেস্তোরাঁগুলি আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, রেস্তোরাঁর কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। সুতরাং কিছু রেস্তোরাঁর মালিকরা ভাবছেন খাবারের মেনু কমানোর কথা। আবার কেউ কেউ ভাবছেন অস্থায়ীভাবে দোকান বন্ধ বা তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধের পথ।
মার্কিন- ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই প্রায় ২০ মিলিয়ন তেল ও গ্যাস আমদানি হয়। বিশ্বব্যাপী ব্যবহারে যার পরিমাণ প্রায় এক পঞ্চমাংশ। উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারীরা এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।
ভারত প্রতিবছর প্রায় ৩১.১ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করে। যার প্রায় ৬১.২% আমদানি করা হয়। এই আমদানির বেশিরভাগ টাই করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। সুতরাং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ইরান সীমিত করেছে হরমুজ প্রণালীর ব্যবহার। যার দরুন রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির থেকে এলপিজি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।











1 thought on “LPG price: দাম বাড়লেও অপর্যাপ্ত রান্নার গ্যাস, দেখে নিন কোন শহরে কত”