রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন, মিরাটের নীল ড্রাম কাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড মুসকান-সাহিলের

Published on: October 14, 2026
Meerut Blue Drum Case
---Advertisement---

অবশেষে বিচার পেলেন সৌরভ। উত্তরপ্রদেশের মিরাটের সেই বহুচর্চিত ‘নীল ড্রাম’ খুনের মামলায় শেষ পর্যন্ত রায় দিল আদালত। স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুনের দায়ে স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনালো আদালত। সিমেন্ট দিয়ে ভরা নীল প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল সৌরভের টুকরো টুকরো করা দেহ। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর বুধবার সাজা ঘোষণা করে মিরাটের জেলা ও দায়রা আদালত।

উল্লেখ্য, বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্রের আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল। মোট ১২৬টি শুনানি এবং ২২ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় আদালত। সাজা ঘোষণার দিন আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। মিরাট জেলা সংশোধনাগারে বন্দি মুসকান ও সাহিলকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির করানো হয়।

Meerut Blue Drum Case: কীভাবে খুন করা হয়েছিল সৌরভকে?

ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ। মার্চেন্ট নেভির কর্মী সৌরভ লন্ডন থেকে মিরাটে ফিরেছিলেন ২৪ ফেব্রুয়ারি। তদন্তে উঠে আসে, সৌরভকে খুনের আগে তাঁর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল মুসকান ও সাহিল। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর বাথরুমে নিয়ে গিয়ে সৌরভের মাথা ও দু’টি হাত কেটে দেওয়া হয়। পরে দেহের টুকরোগুলি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ, খুনের পর মুসকান ও সাহিল সিমলা এবং মানালি ঘুরতেও গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রায় ১৩ দিন ধরে মুসকান ইনস্টাগ্রামে ছবি ও ভিডিয়ো পোস্ট করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সৌরভের সঙ্গে সে বেড়াতে গিয়েছে, এমন ধারণা তৈরি করা। তবে এত কিছু করেও শেষ রক্ষা হয়নি।

সীমান্তের ওপারে সম্প্রীতির ছবি, করাচিতে গরবায় মাতলেন ভক্তরা

কীভাবে সামনে এল খুনের ঘটনা?

১৮ মার্চ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সৌরভের ছোট ভাই রাহুল বাড়িতে গিয়ে মুসকানের সঙ্গে সাহিলকে দেখতে পান। মুসকানের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় এবং বাড়ি থেকে একটি পচা গন্ধ বেরোতে থাকায় বিষয়টি অন্যদের জানান তিনি। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তদন্তে সামনে আসে সৌরভের খুনের কথা। উদ্ধার হওয়া নীল ড্রামের ভিতর থেকে মেলে সৌরভের মৃতদেহ। এরপরই গ্রেফতার হন দুই অভিযুক্ত।

তারপর দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের শুনানি প্রক্রিয়ার পর শেষমেষ বিচার পেলেন সৌরভ। যদিও আদালতের রায় ঘোষণার আগেই সৌরভের পরিবার অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিল। অবশেষে মৃত সৌরভের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডের সাজাই শোনাল আদালত।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now