Site icon Hindustan News Point

NEET exam: “নিট” কি এখনও নিট দুরাশা

NEET exam

কুশল চক্রবর্তী
এই তো ২০২৪ সালের কথা। শিলিগুড়ির খুশি ঘটক নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন ছোটবেলা থেকে মনের ভিতর লালন পালন করা ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য (NEET exam)। কী করেনি মেয়েটা বিগত দু’বছর ধরে? বাবা মায়ের কষ্টের চাকরি থেকে জমানো লক্ষ টাকা খরচ করে ভর্তি হয়েছে কোচিং সেন্টারে। রাতের পর রাত জেগেছে, নিট পরীক্ষায় সাফল্যের তালিকায় নামটা দেখার জন্য। আর শুধু খুশি-ই কেন? ভারতের আসমুদ্র হিমাচলে ২২-২৩ লক্ষ ছেলে মেয়ে প্রানপাত করেছে ডাক্তার হওয়ার বাসনা নিয়ে। পরীক্ষা হয়েছিল ৫ মে। আগে থেকেই কে যেন ওদের বন্ধুদের বলেছিল, জানিস তো অমুকে নাকি প্রশ্ন এর মধ্যেই পেয়ে গিয়েছে।

আশঙ্কা থাকলেও, মেনে নিতে ওদের মন চায়নি। কিন্তু কী হল? পরীক্ষার পরেই আরম্ভ হয়ে গেল সমাজমাধ্যমে হইচই। “পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নাকি আগেই অনেকে পেয়ে গেছে”। নিট পরীক্ষার প্রবন্ধক জাতীয় পরীক্ষা এজেন্সি অস্বীকার করলেও, ৮ মে পটনায় ধরা পড়ল এমন কিছু লোক যারা কি না পরীক্ষার আগের দিন বা পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিয়েছিল কিছু পরীক্ষার্থীকে। বলতে গেলে তখনই মন ভেঙে গিয়েছিল খুশির মতো শত পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীর। অগ্রজদের কাছে থেকে জানতে পেরেছিল এটাই ভারতে প্রথম নয়। প্রি মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় ২০১৫ সালে ১০ রাজ্যে প্রশ্নপত্র আগেই বেরিয়ে গিয়েছিল, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট সেই পরীক্ষা বাতিল করে। ২০১৪ সালে সর্বভারতীয় প্রি মেডিক্যাল পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, প্রশ্নপত্রের বাক্সে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পাওয়ার পর। এমনকি ২০১৭ সালের প্রি মেডিক্যাল পরীক্ষার ভাষার প্রশ্নপত্রের ব্যাপারেও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। এমনকি ২০২১ সালেও জয়পুরে এক পরীক্ষার্থীর মুঠোফোনে অগ্রিম প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথাও শোনা যায়।

প্রশ্ন ফাঁসের জেরে বাতিল হয়েছিল নিট, প্রকাশিত হলো নতুন পরীক্ষার দিনক্ষণ

ফিরে আসি ২০২৪ সালের নিট পরীক্ষার ব্যাপারে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ পায় জুন মাসের ৪ তারিখ। সারা দেশের নিস্পাপ নিট পরীক্ষার্থীরা অবাক হয়ে দেখে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী ৭২০-তে ৭২০ নম্বর পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এত এত নম্বর পেয়েছে কিছু ছাত্র যে তা বলা তাদেরও কল্পনার অতীত। সারা দেশে হইচই হয়। কিন্তু মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয় না, পরীক্ষায় পুরোপুরি অসদ উপায় অবলম্বন করা হয়েছে, এমন অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে। খুশির মত লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বেশি নম্বরের বেড়াজালে মেডিক্যালে সুযোগ পাওয়ার প্রয়াসে, অজানা কারণে ব্যর্থ হয়ে ডুবে যায় হতাশার চোরাবালিতে। কিছুতেই বুঝতে পারে না কী করে, এই পরীক্ষায় এত নম্বর পেল কারা?

শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিবাবকদের প্রত্রিশ্রুতি দেন আগামী দিনে এই পরীক্ষাকে সমস্ত সন্দেহের বাইরে রাখা হবে। এমনকি ভূতপূর্ব ইসরোর চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনকে নিয়ে একটা উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন, যারা কি না এই নিট পরীক্ষাকে আগামী দিনে স্বচ্ছতার শেষ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। দু’বছর কেটে গেল, গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেল। আবার ২০২৬ সালের ৩ মেতে নিট পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই, আবার উঠে এল প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই কিছু মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার খবর। এমনকি এটাও উঠে এল যে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহারসহ আরও কিছু জায়গায় মুঠোফোনের মাধ্যমে তা বিক্রি হয়েছে ২৮ বা ৩০ লাখ টাকায়। এবার আর দেরি করেনি “নিট” কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করেছে পরীক্ষা। কিন্তু ২২ লক্ষ সাধারণ পরীক্ষার্থীর অবস্থাটা একবার ভেবে দেখুন। তাদের বিনিদ্র রজনীর নিরন্তর পড়াশোনার এই কি প্রাপ্তি? ভেবে দেখুন, যে অভিভাবক তাঁর সন্তান বা প্রিয়জনের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে অন্ধকার পথে মেডিক্যাল পড়াতে পাঠাতে চাইল, তাদের কাছ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রের মতো এক মানবিক বিদ্যার উন্মেষ আশা করা যায় কি?

আর গত ২০২৪ সালের নিট পরীক্ষা নিয়ে উঠে আসা নানা অভিযোগকে দূরে সরিয়ে রেখে, এই পরীক্ষার পদ্ধতিকেই মান্যতা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা এবার প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন, ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’। গতকাল মাননীয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নতুনভাবে নিট পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। সে পদ্ধতিও সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে কি না সময় তার উত্তর দেবে।


Exit mobile version