বিমানের ভিতরে তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি। একের পর এক ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন পাইলট। কিন্তু তাঁর চোখের সামনে তখন ১৭০-র বেশি যাত্রী ও ক্রু সদস্যের জীবন। তাই নিজের কথা না ভেবে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার (Smit Machchhar)। তাঁর সেই সাহসেই বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বিমানটি। তবে হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি। মাথার হাড় ভেঙে যাওয়ায় সৌদি আরবে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে স্মিতের।
সূত্রের খবর, দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই ওমানের সহকারী পাইলট হামাদ আল-হাম্মামি ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের উপর হামলা করেন। অভিযোগ, ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁকে ছুরিও মারা হয়। হামলায় মাথায় গুরুতর চোট পান মাচ্ছার। তাঁর মাথার খুলির একটি অংশ ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের চোটকে ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ বলা হয়।
এমন চোট অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, খুলির ভাঙা অংশ ভিতরের দিকে ঢুকে মস্তিষ্কে চাপ দিতে বা মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। তাই সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠন করেন।
আহত অবস্থাতেও বিমানের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
এদিকে হামলার পরও হাল ছাড়েননি মাচ্ছার (Smit Machchhar)। প্রচুর রক্তক্ষরণ এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত নিয়েই তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু এবং যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানটিকেও স্থিতিশীল করার কাজে সাহায্য করেন তাঁরা।
মেন্টর থেকে এবার হেড কোচ, দিল্লির দায়িত্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
এর কিছুক্ষণ পর সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। পরে মাচ্ছারকে সৌদি আরব থেকে এয়ারলিফট করে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মাথার চোট ছাড়াও তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরের অংশে আঘাত রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
‘আমি অন্যদের মরতে দিতে পারতাম না’: স্মিত
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন স্মিত (Smit Machchhar)। সেই কথোপকথনে তিনি জানান, হামলার সময় তিনি মাটিতে পড়ে ছিলেন। তখন বুঝতে পারেন, বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট নীচে নেমে যাচ্ছে। যাত্রীদের বাঁচাতে তাঁকে কিছু একটা করতেই হবে।
মাচ্ছারের কথায়, ‘‘আমি আহত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলাম। তবু শেষবারের মতো জোর দিয়ে ভিতর থেকে দরজা খোলার চেষ্টা করি।’’ তাঁর পরেই অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্য মানুষগুলির জীবনও বাঁচাতে চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।











1 thought on “ভেঙেছে মাথার হাড়, জরুরি অস্ত্রোপচার ফ্লাইদুবাই বিমানের নায়ক স্মিত মাচ্ছারের”
Comments are closed.