রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে দিয়েছিলেন নিজের প্রাণ, স্মিত মনে করাচ্ছেন নীরজাকে

Published on: October 1, 2026
Smith Machchhar Neerja Bhanot
---Advertisement---

বিমান তখন মাঝ আকাশে। এক মুহূর্তে বদলে গেল পরিস্থিতি। ককপিটের ভিতরেই শুরু হল ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ। এক দিকে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই, অন্য দিকে বিমানে থাকা শতাধিক যাত্রীর নিরাপত্তা। এমনই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। আহত অবস্থাতেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই চালিয়ে যান তিনি। স্মিত একা নন, এর আগে একইভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন অন্য এক ভারতীয় নীরজা ভানোট।

প্রায় ৪০ বছর আগে ভারতীয় বিমানকর্মী নীরজা নিজের জীবন বাজি রেখে শত শত যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। একজন ছিলেন পাইলট, অন্য জন কেবিন ক্রু। সময়ের ব্যবধান চার দশক হলেও দু’জনের গল্পের কেন্দ্রে ছিল একই বিষয়—নিজের আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা।

Smith Machchhar Neerja Bhanot: ১৯৮৬-র সেই ভয়াবহ রাত

১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। মুম্বই থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছিল প্যান অ্যামের ফ্লাইট ৭৩। পাকিস্তানের করাচিতে বিমানটি নামার পরই সেটি চার সশস্ত্র জঙ্গির দখলে চলে যায়। শুরু হয় প্রায় ১৭ ঘণ্টার ভয়াবহ পরিস্থিতি।

সেই সময় বিমানের সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার ছিলেন নীরজা ভানোট। হাইজ্যাকের সংকেত পেয়ে তিনি দ্রুত ককপিটের পাইলটদের সতর্ক করেন। পাইলটরা বিশেষ দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ফলে হাইজ্যাকাররা বিমানটি উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেনি।

এর পর যাত্রী ও কর্মীদের দায়িত্ব কার্যত নিজের কাঁধে তুলে নেন নীরজা। যাত্রীদের বাঁচাতে পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলেন তিনি। উদ্ধারকাজের সময় গুলি চললে তিন শিশুকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়িয়ে যান তিনি। গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারান নীরজা। তখন তাঁর ২৩তম জন্মদিনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। তাঁর সাহসের স্বীকৃতিতে ১৯৮৭ সালে মরণোত্তর অশোক চক্র দেওয়া হয়। তিনিই প্রথম মহিলা যিনি এই সম্মান পান এবং সবচেয়ে কম বয়সে অশোক চক্র পাওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম। তাঁর জীবন নিয়ে বলিউডে সিনেমাও তৈরি হয়েছে।

সহকর্মীর কোপে প্রায় দুই টুকরো হাত, সেই অবস্থাতেই লড়াই, কেমন ছিল ছবি?

২০২৬-এ ফের আকাশে সাহসের নজির

২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান নিয়ে যাত্রা করছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন। উড়ানের মাঝেই ককপিটে তাঁর সহ-পাইলটের সঙ্গে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি দিয়ে স্মিতকে আক্রমণ করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন। বিমানটি দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।

গুরুতর আহত হয়েও হাল ছাড়েননি স্মিত। তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। পরে বিমানটির গতিপথ ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়। অবতরণের পর স্মিতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনই প্রাণে বেঁচে যান। (Smith Machchhar Neerja Bhanot)

দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় ৪০ বছরের ব্যবধান। পরিস্থিতি ও পেশা এক নয়। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে নিজের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জায়গায় নীরজা ভানোট ও স্মিত মচ্ছরের গল্প যেন একই সূত্রে বাঁধা।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

1 thought on “যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে দিয়েছিলেন নিজের প্রাণ, স্মিত মনে করাচ্ছেন নীরজাকে”

Comments are closed.