মহারাষ্ট্রের নাসিকের Tata Consultancy Services (TCS)-এর বিতর্কিত ‘ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থা’ মামলায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত নিদা খান অন্তঃসত্ত্বা। এমনটাই দাবি করে তিনি নাসিকের একটি স্থানীয় আদালতে অগ্রিম জামিনের আবেদনও করেছেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাসিকে TCS-এর একটি শাখাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংস্থার ওই ইউনিটে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা এবং জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ওই অফিসে কর্মরত একাধিক মহিলা এবং পুরুষ কর্মীরা তাদের সঙ্গে হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। অভিযুক্তদের তালিকায় অন্যতম HR হেড নিদা খান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিদা খান এই মুহূর্তে পলাতক। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাঁর গর্ভবতী হওয়ার দাবিটি কতটা সত্য, তা সরকারি মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। (TCS Nashik Incident)
উল্লেখ্য, ২৫ বছর বয়সি নিদা খান ২০২১ সালে TCS-এর নাসিকের BPO ইউনিটে যোগ দেন। অভিযোগ, ওই অফিসে জোর করে ধর্মান্তর এবং যৌন হেনস্থার ঘটনায় তিনি অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র। এই গোটা মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৯টি অভিযোগের তদন্ত চলছে, যেখানে যৌন নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা HR প্রধান রয়েছেন।
Virat Kohli: ইনফ্লুয়েন্সারের বোল্ড ছবিতে ‘Love’ রিয়্যাকশন বিরাটের, অ্যালগরিদমের দোষ, না অন্য কিছু?
অভিযোগকারী মহিলারা জানিয়েছেন, তাঁদের সিনিয়র সহকর্মীরা মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেন, কিন্তু এই বিষয়ে HR বিভাগে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। (TCS Nashik Incident)
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এক মহিলা কর্মীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বারবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। অন্যদিকে আরও এক কর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, জোর করে নমাজ পড়ানো এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যও করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিকের কাছেও বিষয়টি জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি, বরং অভিযুক্তদের কার্যকলাপকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছেন।
ঘটনা সামনে আসার পর Tata Consultancy Services (TCS) কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মীদের সাসপেন্ড করেছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে, এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
সব মিলিয়ে, নাসিকের এই TCS কাণ্ড এখন অত্যন্ত গুরুতর রূপ নিয়েছে। একদিকে পলাতক অভিযুক্ত নিদা খানের বিরুদ্ধে তদন্ত জারি রয়েছে, অন্যদিকে তাঁর নতুন দাবি- তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এই পরিস্থিতি আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার পুলিশি তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং আসল দোষীরা কবে শাস্তি পান। (TCS Nashik Incident)

