উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় বেতোয়া নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর একটি অংশ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ছয় শ্রমিকের। (UP Bridge Collapse) বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার মধ্যেই আচমকা ভেঙে পড়ে সেতুর একটি কংক্রিটের চাঙড়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন একাধিক শ্রমিক। রাতভর চলে উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, হামিরপুর জেলার কুরারা ব্লকের মোরা কান্দার ও কান্দৌর গ্রামকে সংযুক্ত করার জন্য বেতোয়া নদীর উপর প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কাজ হচ্ছিল। (UP Bridge Collapse) ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পকে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পরিকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে কাজ চলাকালীনই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার বর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শ্রমিকরা সেতুর উপর কাজ করার সময় আচমকাই একটি ভারী কংক্রিট চাঙড়টি ভেঙে পড়ে। তার নিচেই আটকে পড়েন শ্রমিকরা। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
(UP Bridge Collapse) মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। মৃতরা হলেন লোকেন্দ্র (২২), কুলদীপ নিশাদ (১৯), সাওয়ন্ত যাদব (২৮), সভাজিৎ (৩০), পুষ্পেন্দ্র চৌহান (৩৪) এবং রাজেশ পাল (৪২)। প্রশাসনের দাবি, মৃতদের মধ্যে দু’জন হামিরপুর জেলার বাসিন্দা এবং বাকি চারজন প্রতিবেশী বান্দা জেলা থেকে কাজ করতে এসেছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০ বছর পর ফের নিষেধাজ্ঞা, ভারতীয় আমে ‘না’ জাপানের, আশঙ্কায় কৃষকরা
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী, দমকল কর্মী এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রবল প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শুরু হয় উদ্ধারের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF)-এর বিশেষ দল ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে, আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। নদীর উপর মূল স্তম্ভগুলি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল এবং তার উপর কংক্রিট ডেক বসানোর কাজ চলছিল। পাঁচটি ডেক বসানোর পরেই এই বিপর্যয় ঘটে।
(UP Bridge Collapse) ঘটনার পরই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনার রিপোর্ট তলব করেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লেখেন, “হামিরপুর জেলার বেতোয়া নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, মৃতদের আত্মা শান্তি পাক এবং আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”
এই ঘটনায় (UP Bridge Collapse) নির্মীয়মাণ সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও কেন কাজ চলছিল, নির্মাণের মান ঠিক ছিল কি না এবং সুরক্ষা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: সিদ্দারামাইয়ার যুগ শেষ, কর্ণাটকের নতুন মুখ ডি কে শিবকুমার

