তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদল। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের DMK-AIADMK আধিপত্য ভেঙে রবিবার সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক তথা TVK প্রধান সি. জোসেফ বিজয়। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর। বিজয়ের সঙ্গে আরও ৯ জন মন্ত্রীও শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং হাজার হাজার সমর্থক। (Vijay Tamilnadu CM)
৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে TVK ১০৮টি আসনে জয়ী হয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। এরপর কংগ্রেস, ভিডিউথালাই চিরুথাইগল কাচি (VCK), সিপিআই, সিপিএম এবং আইইউএমএল-এর সমর্থন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন বিজয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চললেও শনিবার সন্ধ্যায় সমর্থনপত্র নিয়ে লোকভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানান তিনি। এরপরই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল। (Vijay Tamilnadu CM)
শপথের পর নিজের প্রথম ভাষণে আবেগঘন সুরে বিজয় বলেন, “আমি কোনও দেবদূত নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আপনাদের মতোই আমারও ভুল হতে পারে। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছেটা সৎ।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা ভোগ করার জন্য নয়, মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা রাখতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। নতুন সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই সরকার মানুষের সরকার। সাধারণ মানুষের সমস্যা, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেন বিজয়। নতুন সরকারের প্রথম ঘোষণার মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিবারের জন্য মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বিশেষ ইউনিট তৈরি। বিজয়ের দাবি, “তামিলনাড়ুতে নতুন যুগের সূচনা হলো।” (Vijay Tamilnadu CM)
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজনৈতিক জীবনে আসার আগে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন বিজয়। ২০২৪ সালে তিনি ‘তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম’ বা TVK গঠন করেন এবং সিনেমা থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন। মাত্র প্রথম নির্বাচনে তাঁর দলের এই সাফল্য তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম কোনও অ-দ্রাবিড় দল রাজ্যে সরকার গঠন করল।
অন্যদিকে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে চেন্নাই শহরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। নেহরু স্টেডিয়াম, লোকভবন এবং বিজয়ের পানাইয়ুরের বাসভবনের সামনে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “হাজার হাজার সমর্থকের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। স্টেডিয়াম ও আশপাশ এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।” পুলিশ সূত্রে খবর, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসমাগম সামলাতে বিশেষ বাহিনীও মোতায়েন ছিল।
রুপোলি পর্দা থেকে সচিবালয়, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ বিজয়ের

