আপনিও কি কফিপ্রেমী? সারাদিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি রোজই পান করেন? তবে এরকম অভ্যাস কিন্তু অনেকেরই কাছে। এমন লোকও আছেন যাঁদের সকাল শুরু হয় কফি দিয়ে আবার দিন শেষও হয় কফি দিয়ে। তবে আমাদের মধ্যে এমন ধারণা আছে যে অতিরিক্ত কফি পান করলে শরীরে নানান ক্ষতি হতে পারে। যদিও এ ধারণা একেবারে মিথ্যে নয়। তবে জানেন কি, পরিমিত পরিমাণে কফি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কিছু উপকারও নিয়ে আসতে পারে? সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের ক্যান্সার চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণ একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস এবং তার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ক্যাফিন এবং উদ্ভিজ উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কফি কখন কীভাবে পান করছেন সেই বিষয়ে অবশ্যই নজর দিতে হবে।
Benifits of Coffee: কফি খেলে মিলতে পারে যে ৫ উপকার
১. লিভারের অসুখের ঝুঁকি কমাতে পারে
নিয়মিত কফি খাওয়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভার এবং লিভার সিরোসিসের মতো কিছু অসুখের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে বিভিন্ন গবেষণা। কফির কিছু উপাদান প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
২. টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে
কফিতে থাকা পলিফেনল শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকের উল্লেখ করা গবেষণা অনুযায়ী, দিনে এক, দুই বা তিন কাপ কফি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি যথাক্রমে ৮, ১৫ ও ২১ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক দেখা গিয়েছে। তবে কফিতে অতিরিক্ত চিনি মেশালে এই সম্ভাব্য উপকার কমতে পারে।
৩. এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা
কিছু গবেষণায় কফি খাওয়ার সঙ্গে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের ক্যানসার বা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। তবে কফি ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় নয়।
৪. পারকিনসনসের ঝুঁকি কমতে পারে
ক্যাফিনযুক্ত কফি খাওয়ার সঙ্গে পারকিনসনস রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্কও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। মস্তিষ্কের সুরক্ষায় ক্যাফিনের সম্ভাব্য ভূমিকা এর একটি কারণ হতে পারে।
৫. হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে
কফির অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত কফি খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্কও দেখা গিয়েছে।
সৌরভ-আশুতোষদের মামলা হস্তান্তর, কবে মুক্তি CJP নেতাদের?
কফি খাওয়ার সময় যে ভুল এড়াবেন
চিকিৎসকের পরামর্শ, একেবারে গরম কফি খাবেন না। ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পানীয় খেলে খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে কফির চেয়ে পানীয়ের অতিরিক্ত তাপমাত্রাই বেশি উদ্বেগের বিষয়।তাই কফি খাওয়ার আগে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। (Benifits of Coffee)
পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন এবং ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেলের পর কফি না খাওয়াই ভালো।
তাই চিকিৎসকের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে দিনে ২-৩ কাপ কফি পরিমিত অভ্যাস হতেই পারে। তবে ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কফির পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
তবে মনে রাখবেন, কফি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি পরিমিত কফি খাওয়ার অভ্যাসই হতে পারে ভালো থাকার অন্যতম উপায়।













1 thought on “প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস রয়েছে? ভয় নয়, লিভার থেকে হার্ট সুস্থ রাখতে পারে এই পানীয়”
Comments are closed.