Site icon Hindustan News Point

Cervical Cancer: ২০৪৮ এর মধ্যে সার্ভিকাল ক্যানসার নির্মূলের আশা, এখানও পার্থক্য গড়ছে ধনী-গরিব

Cervical Cancer 1

বিশ্বজুড়ে নারীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আশার খবর শোনাল সাম্প্রতিক একটি গবেষণা। রিপোর্ট বলছে, উন্নত দেশগুলি চাইলে আগামী ২০৪৮ সালের মধ্যেই সার্ভিকাল ক্যানসারের (Cervical Cancer) প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হতে পারে। তবে একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছে গবেষণা—দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে এই অগ্রগতি এখনও অনেক ধীর গতির।

গবেষণা অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলিতে ব্যাপক হারে HPV vaccination এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং চালু থাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) এর সংক্রমণই মূলত এই ক্যানসারের কারণ, আর সময়মতো টিকা নিলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ ধরা পড়ে, ফলে চিকিৎসাও সহজ হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন-সহ একাধিক উন্নত দেশ ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। সেখানে টিকাকরণ কর্মসূচি স্কুল স্তর থেকেই চালু হয়েছে এবং মহিলাদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে আগামী দুই দশকের মধ্যেই এই দেশগুলিতে সার্ভিক্যাল ক্যানসার বিরল রোগে পরিণত হতে পারে। (Cervical Cancer)

অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাব, টিকার সীমিত প্রাপ্যতা এবং সচেতনতার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও বহু মহিলা নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং মৃত্যুহারও তুলনামূলক বেশি থাকছে।

এই প্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ কিশোরীকে HPV টিকার আওতায় আনা, ৭০ শতাংশ মহিলার নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং ৯০ শতাংশ আক্রান্তের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলেই এই রোগকে বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। (Cervical Cancer)

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “সার্ভিকাল ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সেই ব্যবস্থার অভাবই বড় চ্যালেঞ্জ।”

এদিকে, এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য, “টিকাকরণ এবং স্ক্রিনিং বাড়াতে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি কাজ করছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষকে সচেতন করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।” (Cervical Cancer)

সব মিলিয়ে, সার্ভিকাল ক্যানসার নির্মূলে বিশ্ব এগোলেও ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে বৈষম্যই এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ফারাক না কমালে বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন : World Malaria Day 2026: গর্ভাবস্থায় সামলে, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা


Exit mobile version