অবশেষে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলল ভারতীয় ফুটবল মহল। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) কাছ থেকে মেলা বিশেষ ছাড়পত্রে আগামী মরসুমে ভারতীয় ক্লাবগুলোর জন্য AFC ম্যাচ খেলার পথ প্রশস্ত করে দিল। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ান স্লট হারানোর ভয় আর রইল না ভারতীয় ক্লাবগুলোর কাছে। ফেডারেশন এই ছাড়পত্রের জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, যা মেলার পর দ্রুত ঘরোয়া মরসুম চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে রয়েছে একটা শর্ত। ভারতের দুই ক্লাব সরাসরি ACL টু খেলতে পারবে না। তাদের প্রথমে কোয়ালিফায়ার খেলতে হবে। এতদিন ISL চ্যাম্পিয়ন টিম সরাসরি জায়গা পেত ACL ২-র গ্রুপস্তরে। সুপার কাপজয়ী টিমকে খেলতে হতো কোয়ালিফায়ার। এ বার দুই দলকেই কোয়ালিফায়ারে খেলতে হবে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গেলে কোনও দেশের সর্বোচ্চ ঘরোয়া লিগে প্রতিটি দলকে অন্তত ২৪টি ম্যাচ খেলতে হয়। কিন্তু ভারতের বর্তমান ফুটবল ক্যালেন্ডারে এই শর্ত পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিটা দল ২৩টা করে ম্যাচ খেলবে। যার ফলে এশিয়ার মঞ্চে ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই মরশুমের জন্য AIFF ক্লাবগুলোকে সুযোগ দেওয়ার জন্য AFC-র কাছে আবেদন করে। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ভারতকে এক বছরের জন্য এই কঠোর নিয়ম থেকে বিশেষ ছাড় দিল AFC। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার ফলে আগামী মরশুমে ISL চ্যাম্পিয়ন এবং সুপার কাপ বিজয়ীদের এশিয়ান ফুটবলে খেলতে আর কোনও বাধা রইল না।
The Asian Football Confederation (AFC) granted India a one-season exemption, allowing the ISL and Super Cup champions to participate in the AFC Champions League Two qualifiers! #IndianFootball #IndianSuperLeague #ACL2 pic.twitter.com/lEfYu5r6jR
— Khel Now (@KhelNow) January 15, 2026
AFC-র এই বড় ঘোষণার আগে অবশ্য অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন ISL শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছিল। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৫-২৬ মরশুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। সময় কম থাকায় এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও বদল আনা হয়েছে। কোনো প্লে-অফ ছাড়াই ১৭ মে-র মধ্যে শেষ হবে লিগ। ১৪টি ক্লাবকে নিয়ে মোট ৯১টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে।
সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে লিগ শেষ করতে গিয়ে ম্যাচের সূচিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এবার বেশিরভাগ দিনেই দুটি করে ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন। শুক্র, শনি এবং রবিবার মূলত ‘ডাবল হেডার’ রাখা হয়েছে, যা শুরু হবে বিকেল ৫:৩০ এবং সন্ধ্যা ৭:০০ টায়।
একদিকে যখন মাঠে ফেরার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে ক্লাবগুলোর জন্য কড়া আর্থিক বিধি তৈরির পথে হাঁটছে ফেডারেশন। ১২ জানুয়ারির মধ্যে ক্লাবগুলোকে ১ কোটি টাকা পার্টিসিপেশন ফি দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক পার্টনার চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে ক্লাবগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য স্যালারি ক্যাপ ও নতুন লাইসেন্সিং নিয়ম কার্যকর করতে চলেছে AIFF।












