বাংলার ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবি নতুন নয়। সম্প্রতি রাজ্য ক্রীড়ামন্ত্রী নীশীথ প্রামাণিক সেই বার্তা দিয়েছিলেন। এবার একই সুরে সরব হলেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার তথা প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্দা (Ashok Dinda) । তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ক্রীড়াক্ষেত্রের নেতৃত্ব ক্রীড়াবিদদের হাতেই থাকা উচিত। পাশাপাশি বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ (সাই)-এর একটি বৃহৎ প্রকল্প নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিন্দা জানিয়েছেন, রাজ্যে খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তাঁর মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের চাহিদা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা তাঁদেরই রয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি (Ashok Dinda) তুলে ধরেন বহু প্রতীক্ষিত সাই প্রকল্পের বিষয়টি। তাঁর দাবি, বাংলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি ক্রীড়া প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল সাইয়ের। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ২৫ একর জমি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে সেই জমি দেওয়া হয়নি বলেই প্রকল্পটি আটকে যায়।
প্রাক্তন এই জাতীয় ক্রিকেটার জানান, ২০২১ সালে ময়না কেন্দ্র থেকে বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। এরপর বাংলার ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেই বৈঠকেই তিনি জানতে পারেন যে জমির অভাবের কারণেই বাংলায় সাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
(Ashok Dinda) তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি তিনি বিধানসভায় তুললেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমি যখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলি, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, পর্যাপ্ত নথি দেখাতে না পারলে আমাকে সাসপেন্ড করা হতে পারে।” সেই সময় বিষয়টি নিয়ে তিনি সরব হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে দিন্দা জানান, ২০২২ সালে প্রস্তাবিত প্রকল্প সংক্রান্ত নথিপত্র বিধানসভায় পেশ করা হয়েছিল। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, সেই নথিতে ২০০ কোটি টাকার বাজেটের কোনও স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। সেই কারণেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল বলে দাবি।
১৫ বছরেই ঝড়! বৈভবের টানে লাইভ সম্প্রচারে ভারত ‘এ’ সিরিজ
ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অশোক দিন্দা। তাঁর দাবি, “এবার থেকে স্পোর্টস শুধু স্পোর্টসপার্সনরাই দেখবেন। তৃণমূল জমানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক একজন ভাই একসঙ্গে একাধিক ক্রীড়া সংস্থার চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি বা প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। যাঁরা কোনওদিন খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাঁরাও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছিলেন। এর ফলেই বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্র পিছিয়ে পড়েছে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি (Ashok Dinda) প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, “দুই মহিলা অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার আর্জেন্টিনায় খেলতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তামিলনাড়ুর জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি, কারণ তাঁদের ইস্টবেঙ্গলের একটি টুর্নামেন্টে খেলতে হতো। বিষয়টি আমি বিধানসভায় তুলেছিলাম।” তাঁর দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্তই বাংলার ক্রীড়ার অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়েও রাজ্যের তৎকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দিন্দা। তাঁর বক্তব্য, “২০২২ সালে দেশের ১৪টি রাজ্যে সাইয়ের প্রকল্প এগিয়েছে। কিন্তু বাংলায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হয়নি।” তবে ভবিষ্যতে ক্রীড়ার উন্নয়নে সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য সকলের সহযোগিতা চাইব, কিন্তু ক্রীড়া সংস্থার মাথায় এমন কাউকে বসানো হবে না, যাঁদের খেলাধুলার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।”
সব বিতর্কের মধ্যেও আশাবাদী অশোক দিন্দা। (Ashok Dinda) তাঁর বক্তব্য, বাংলায় সাইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। কলকাতা, বর্ধমান কিংবা পূর্ব মেদিনীপুর—এই তিন জায়গার কোনও একটিতে ভবিষ্যতে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটলে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত পরিকাঠামো এবং জাতীয় স্তরে নিজেদের মেলে ধরার আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
কমল ISL-এর বাজারমূল্য, ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি ক্লাবগুলোর

