---Advertisement---
lifezone nursing home

কমল ISL-এর বাজারমূল্য, ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি ক্লাবগুলোর

June 3, 2026 4:03 PM
ISL Market Value
---Advertisement---

ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে লিগের সামগ্রিক বাজারমূল্যে (ISL Market Value) বড়সড় পতন, অন্যদিকে বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ক্লাবগুলির সঙ্গে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে দেশের ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ফুটবল মহলে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম আইএসএলের মোট বাজারমূল্য (ISL Market Value) ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। গত ১৮ মাসে লিগটির বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের সামগ্রিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতিফলন।

শুধু লিগ নয়, ফুটবলারদের বাজারমূল্যেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে ২ কোটি টাকা বা তার বেশি বাজারমূল্যের ভারতীয় ফুটবলারের সংখ্যা ছিল ৩২ জন, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ জনে। ফলে দেশীয় ফুটবলারদের চাহিদা, মূল্যায়ন এবং বাজারে তাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

(ISL Market Value) এই ধাক্কার প্রভাব পড়েছে আইএসএলের অন্যতম সফল ক্লাব মোহনবাগানের উপরও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজ-মেরুন শিবিরের স্কোয়াড ভ্যালু কমেছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। শুধু মোহনবাগান নয়, আইএসএলের একাধিক ক্লাবের বাজারমূল্যেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কোনও লিগ বা ক্লাবের বাজারমূল্য (ISL Market Value) আসলে ফুটবলারদের চাহিদা, ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, স্পনসরদের আগ্রহ এবং লিগের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই কারণে ধারাবাহিকভাবে বাজারমূল্য কমতে থাকা ভারতীয় ফুটবলের জন্য মোটেই ইতিবাচক বার্তা নয়।

ডুরান্ড কাপের আগে অনিশ্চয়তার মেঘ, বিদেশি ফুটবলার কমানোর দাবি মোহনবাগানের

(ISL Market Value) এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল ক্যালেন্ডার নিয়ে অনিশ্চয়তা, মরশুমের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া, প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতার অভাব, বিভিন্ন ক্লাবের আর্থিক সঙ্কট এবং ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান সংশয়—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এরই মধ্যে আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ক্লাবগুলির সঙ্গে AIFF-এর মতপার্থক্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। আইএসএলের অধিকাংশ ক্লাব যৌথভাবে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে আগামী দু’মরশুমের জন্য একটি ‘পাইলট মডেল’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, লিগের বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার দায়িত্ব ক্লাবগুলির হাতে থাকলে তারা AIFF-কে প্রতি মরশুমে নিশ্চিতভাবে ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ক্লাবগুলির দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি করা হলে আইএসএলের প্রকৃত মূল্যায়ন কমে যেতে পারে। তাই আপাতত দু’বছরের পরীক্ষামূলক মডেল চালু করে তার ফলাফল পর্যালোচনা করার পক্ষে তারা মত দিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী দিনে লিগের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এফসি গোয়ার সিইও রবি পুস্কর। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইএসএলের প্রকৃত মূল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এখনই দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি বা বাণিজ্যিক স্বত্ব চুক্তিতে প্রবেশ করলে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

শাকিরা না আইশোস্পিড, ইন্টারনেটের আদালতে এগিয়ে কে?

এছাড়াও, ক্লাবগুলি আন্তর্জাতিক ডেটা ও স্পোর্টস টেকনোলজি সংস্থা Genius Sports-এর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তথ্য ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বাণিজ্যিক অধিকার বা ডেটা রাইটস সংক্রান্ত বিষয়ে Genius Sports-কে প্রথম পছন্দের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। ক্লাবগুলির ধারণা, এর ফলে লিগের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়বে।

অন্যদিকে, AIFF-এর প্রস্তাবিত নতুন ক্লাবগুলির জন্য ১ কোটি টাকার প্রবেশমূল্য (Entry Fee) নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে আইএসএল ক্লাবগুলি। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং ক্লাবগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি। ক্লাবগুলির মতে, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রবেশমূল্য আরোপ করলে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে লিগের সম্প্রসারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্ব, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ মডেল নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে AIFF ও ক্লাবগুলির মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারতীয় ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্পষ্ট ফুটবল ক্যালেন্ডার, শক্তিশালী বাণিজ্যিক কাঠামো এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আইএসএলের বাজারমূল্য পতনের এই প্রবণতা আরও গভীর হতে পারে। ফলে AIFF ও ক্লাবগুলির আগামী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা ভারতীয় ফুটবল মহল।

কঙ্গনার মুখে জনের প্রশংসা, বিনামূল্যে দিলেন ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ টাইটেল


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment