কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ৫ আগস্ট দিনটা একটু বেশিই বিশেষ হয়ে উঠল। একদিকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হয়ে মিগুয়েলের কলকাতায় আগমনে সবুজ-মেরুন শিবিরে উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে শহরে পা রাখলেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি ফুটবলার ডিমিত্রি ইকোনোমিডিস। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের এই তারকা উইঙ্গার ইতিমধ্যেই দু’বছরের চুক্তিতে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছেন। চলতি ডুরান্ড কাপের মাঝেই তিনি কলকাতায় এসে পৌঁছালেন।
Ikonomidis East Bengal: শুক্রবারই কি অভিষেক?
৩১ বছর বয়সী ইকোনোমিডিস মূলত ডান পায়ের ফুটবলার। দুই প্রান্ত ধরেই খেলতে পারেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে একাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার ডুরান্ড কাপের তৃতীয় ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে তাঁকে খেলানো হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ ১২ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রয়েছে এএফসি কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তাই নতুন বিদেশিকে দ্রুত ম্যাচ ফিট করে তোলাই কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাসের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ডুরান্ড কাপের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলির প্রস্তুতিও চলছে।
নজরে ময়দানের অজি দ্বৈরথ
ইতিমধ্যেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেনও কলকাতায় এসে গিয়েছেন। তিনি সম্ভবত ১০ আগস্ট ডুরান্ড কাপের ম্যাচে খেলবেন। ফলে কলকাতা ফুটবলের দুই প্রধানের জার্সিতে দুই অস্ট্রেলিয়ান তারকার লড়াই নিয়ে এখন থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অল্প বয়সে ইউরোপে পাড়ি দিয়ে লাজিওর যুব দলে খেলেছেন ইকোনোমিডিস। পরে ইতালির একাধিক ক্লাবে এবং অস্ট্রেলিয়ার পার্থ গ্লোরির হয়ে এ-লিগেও খেলেছেন। দ্রুত গতি, ড্রিবলিং, কাউন্টার অ্যাটাকে দক্ষতা এবং বক্সে ঢুকে গোল করার ক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত। যদিও চোট পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তবে ফিট থাকলে তিনি প্রতিপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
রোনাল্ডোর অনুপ্রেরণায় কমনওয়েলথে ইতিহাস অস্মিতার
টোলগে ওজবের স্মৃতি কি ফিরবে?
প্রায় ১৬ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার টোলগে ওজবে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একাধিক ট্রফি জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এবার ইকোনোমিডিস সেই ধারাকে ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটাই দেখার। তিনি ইস্টবেঙ্গলের পঞ্চম বিদেশি হিসেবে দলে যোগ দিলেন। এর আগে মহম্মদ রশিদ, দানি রামিরেজ এবং নাচো দলে এসেছেন। রশিদ ও দানি ইতিমধ্যেই ডার্বিতে বদলি হিসেবে নেমে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রায় ৮০ মিনিট খেলেছেন। শুক্রবার তাঁদের প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নাচোর সামান্য চোটের অস্বস্তি থাকলেও তাঁকে বদলি হিসেবে নামানো হতে পারে।অন্যদিকে এফিয়ং কবে দলে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। (Ikonomidis East Bengal)
ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি এএফসি কাপের প্রস্তুতিও সমান তালে চলছে। ডুরান্ড ডার্বিতে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৮-০ ব্যবধানে জয়ের ফলে কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাস খুশি। এখন নতুন বিদেশিকে দ্রুত দলে মানিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির জন্য প্রস্তুত করাই ইস্টবেঙ্গলের প্রধান লক্ষ্য।










