দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপ শুরু হতে আর হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ১৫ জুলাই থেকে টুর্নামেন্ট শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও, ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা। নতুন মরসুমের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও ঘোষণা করতে পারেনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। এরই মধ্যে ডুরান্ড কাপে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। (Durand Cup 2026)
সোমবার এক বিবৃতিতে মোহনবাগান জানিয়েছে, তারা ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে আয়োজকদের কাছে ইতিমধ্যেই সম্মতিপত্র পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলারদের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে প্রতিযোগিতায় বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা হ্রাস করার আবেদনও জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সবুজ-মেরুন শিবিরের মতে, দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থেই এই প্রস্তাব। গত মরসুমেও তারা ডুরান্ড কাপে শুধুমাত্র ভারতীয় ফুটবলারদের খেলানোর পক্ষে মত দিয়েছিল। সেই অবস্থান বজায় রেখেই এবারও দেশীয় ফুটবলারদের বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। (Durand Cup 2026)
বর্তমানে AIFF-এর নিয়ম অনুযায়ী, আইএসএল ও আই-লিগের ক্লাবগুলো সর্বোচ্চ ছয়জন বিদেশি ফুটবলারকে চুক্তিবদ্ধ করতে পারে। তবে ম্যাচের প্রথম একাদশে চারজনের বেশি বিদেশি নামানো যায় না। কিন্তু ডুরান্ড কাপ ও সুপার কাপে ছয়জন বিদেশিকেই দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই নিয়মেই আপত্তি জানিয়েছে মোহনবাগান। উল্লেখ্য, অতীতেও ডুরান্ড কাপ এবং সুপার কাপে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর দাবি তুলেছিল তারা।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ফুটবল মহলে। কারণ এখনও পর্যন্ত ২০২৬-২৭ মরসুমের কাঠামো ও সূচি প্রকাশ করতে পারেনি AIFF। ফলে আইএসএল ও আই-লিগের অধিকাংশ ক্লাবই দল গঠনের কাজ শুরু করতে পারেনি। অনেক ক্লাবের কোচ এবং বিদেশি ফুটবলারদের চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন কোচ ও ফুটবলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও সময়ের অভাব দেখা দিচ্ছে। (Durand Cup 2026)
এর অন্যতম উদাহরণ ইস্টবেঙ্গল। সদ্য আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হলেও এখনও তারা নতুন কোচ বা বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি।ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ জুলাই ডুরান্ড কাপ শুরু হলে ক্লাবগুলোর অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি শিবির শুরু করা প্রয়োজন। কিন্তু আগামী মরসুমের পরিকল্পনা স্পষ্ট না হওয়ায় অধিকাংশ দলই এখনও স্কোয়াড গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে পারছে না।
পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে কয়েকটি ক্লাবের আর্থিক সংকট। ওডিশা এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স, এফসি গোয়া এবং ইন্টার কাশীর মতো একাধিক ক্লাব বর্তমানে আর্থিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত। (Durand Cup 2026)
এই প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (FPAI)। সংস্থার দাবি, আগামী মরসুম নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার কারণে বহু পেশাদার ফুটবলার, এমনকি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা কয়েকজন খেলোয়াড়ও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।
FPAI তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে মতভেদ ভুলে দ্রুত সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। (Durand Cup 2026)
ফেডারেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে নতুন মরসুমের রোডম্যাপ প্রকাশের চেষ্টা চলছে। তবে সময় যত এগোচ্ছে, ততই ডুরান্ড কাপের আগে ক্লাবগুলোর পূর্ণ শক্তির দল গঠন এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
অপেক্ষার অবসান, ভারতে ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল জি এন্টারটেইনমেন্ট












1 thought on “ডুরান্ড কাপের আগে অনিশ্চয়তার মেঘ, বিদেশি ফুটবলার কমানোর দাবি মোহনবাগানের”