রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

শব্দ নয় মনের কথাটা বলে দেয় ইমোজি, কীভাবে ছোট প্রতীক হয়ে উঠল বিশ্বের ভাষা?

Published on: July 17, 2026
World Emoji Day
---Advertisement---

রাগ করলে লাল মুখের ইমোজি, দুঃখ পেলেই কান্নার ইমোজি, আর প্রিয় মানুষকে প্রতি টেক্সটের শেষে দেওয়া রেড হার্ট এই সবই আমাদের রোজকার সঙ্গী। ইমোজি ছাড়া চ্যাট করার কথা আজকের দিনে ভাবাই যায় না। কিন্তু জানেন কি এই মুশকিল আসান ইমোজির জন্য রয়েছে এক বিশেষ দিন? আজ, ১৭ জুলাই ওয়ার্ল্ড ইমোজি ডে। এখন আর শুধু শব্দ নয়, অনেক সময় একটি ছোট্ট প্রতীক দিয়েই মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ফেলেন। তবে কবে, কীভাবে এলো এই ইমোজি?

অনেকেরই প্রশ্ন, কেন ১৭ জুলাই-ই ওয়ার্ল্ড ইমোজি ডে হিসেবে পালিত হয়? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে অ্যাপলের ইতিহাসে। এক সময় অ্যাপলের ক্যালেন্ডার ইমোজিতে ১৭ জুলাই তারিখটি দেখা যেত। কারণ, ২০০২ সালের এই দিনেই সংস্থাটি তাদের iCal অ্যাপ চালু করেছিল। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই ইমোজিপিডিয়া (Emojipedia)-এর প্রতিষ্ঠাতা জেরেমি বার্জ ২০১৪ সালে ১৭ জুলাইকে ওয়ার্ল্ড ইমোজি ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। (World Emoji Day)

তবে বর্তমান ইমোজির ইতিহাস শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। জাপানের ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য প্রথম ১৭৬টি ইমোজি তৈরি করেন। মাত্র ১২×১২ পিক্সেলের সেই ছোট ছোট ছবিগুলি আবহাওয়ার চিহ্ন, রাস্তার সাইনবোর্ড এবং জাপানি কমিকস থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। তবে তারও আগে, ১৯৮২ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্কট ফাহলম্যান প্রথম টেক্সট-ভিত্তিক স্মাইলি ব্যবহার করেন, যা অনলাইনে আবেগ প্রকাশের নতুন পথ দেখিয়েছিল।

ইমোজিকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল গুগল। ২০০৭ সালে গুগল ইমোজিকে Unicode Standard-এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এরপর ২০১১ সালে অ্যাপল তাদের ডিভাইসে ইমোজি কিবোর্ড চালু করলে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে Unicode Standard-এ ৩,৯৫০টিরও বেশি ইমোজি রয়েছে এবং প্রতি বছরই নতুন নতুন ইমোজি যুক্ত হচ্ছে।

নেট স্লো? ওয়াইফাইয়ে এই ভুলগুলো করছেন না তো?

প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ইমোজি আদান-প্রদান হয়। তবে এত নতুন ইমোজি যুক্ত হলেও এখনও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ‘ফেস উইথ টিয়ার্স অব জয়’ ইমোজি। এরপর জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছে ‘লাউডলি ক্রাইং ফেস’ এবং ‘রেড হার্ট’।তবে ইমোজির জনপ্রিয়তা শুধু মেসেজিং বা সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৭ সালে ‘দ্য ইমোজি মুভি’ নামে একটি অ্যানিমেশন ছবিও মুক্তি পেয়েছিল। সমালোচকদের কাছ থেকে খুব বেশি প্রশংসা না পেলেও ছবিটি বিশ্বজুড়ে ২১ কোটিরও বেশি ডলার আয় করেছিল। (World Emoji Day)

ছোট্ট একটি ডিজিটাল প্রতীক হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও আজ ইমোজি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে বড় অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় হাজার শব্দের পরিবর্তে একটি ছোট্ট ইমোজিই মানুষের অনুভূতি অনেক সহজে ও দ্রুত প্রকাশ করে দেয়। তাই ডিজিটাল যুগে ইমোজি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানুষের আবেগ প্রকাশের এক অনন্য ভাষা হয়ে উঠেছে।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment