বাড়িতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অভিযোগ করেন, ইন্টারনেটের স্পিড খুব কম। ভিডিয়ো বাফারিং, অনলাইন মিটিংয়ে সমস্যা, গেম খেলতে ল্যাগ কিংবা ওয়েবসাইট খুলতে দেরি—এসবের জন্য বেশিরভাগ সময় দোষ পড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার উপর। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার আসল কারণ হতে পারে আপনার ওয়াইফাই ব্যবহারের ভুল।
রাউটার কোথায় রাখা হচ্ছে, কোন ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছেন, কতগুলি ডিভাইস একসঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে কিংবা কতদিন অন্তর রাউটার রিস্টার্ট করা হচ্ছে—এসব ছোট ছোট বিষয়ই ইন্টারনেটের গতির উপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন, তা জেনে নেওয়া জরুরি। (Tech Tips)
১. রাউটার কোথায় রাখছেন?
অনেকেই রাউটার ঘরের এক কোণে, আলমারির পাশে বা টিভির পিছনে রেখে দেন। এতে সিগন্যাল বাধা পায় এবং বাড়ির সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছতে পারে না। রাউটার যতটা সম্ভব ফাঁকা জায়গায়, ঘরের মাঝামাঝি এবং একটু উঁচু স্থানে রাখাই ভালো।
২. বাধা তৈরি করে এমন ডিভাইসের পাশে রাউটার রাখবেন না
মাইক্রোওয়েভ, ব্লুটুথ ডিভাইস, কর্ডলেস ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের খুব কাছে রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। তাই এগুলি থেকে কিছুটা দূরে রাখুন। কারণ এই যন্ত্রগুলো থেকে রেডিও ওয়েভ নির্গত হয়, যেটা রাউটারকে তার স্বাভাবিক কাজ করতে দেয় না।
৩. দুর্বল ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড
সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে অন্য কেউ অনুমতি ছাড়াই আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারে। এতে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যাওয়ায় স্পিড কমে যেতে পারে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে নিয়মিত সেই পাসওয়ার্ড বদলান।
৪. একসঙ্গে অনেক ডিভাইস কানেক্ট করবেন না
একটি রাউটারে একসঙ্গে অনেক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টিভি বা অন্যান্য ডিভাইস যুক্ত থাকলে নেটওয়ার্কের উপর চাপ বাড়ে। অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস ডিসকানেক্ট করে দিন, এতে ইন্টারনেটের স্পিড ভালো পাবেন। (Tech Tips)
৫. রাউটার আপডেট করছেন তো?
অনেকেই বছরের পর বছর রাউটারের সফটওয়্যার আপডেট করেন না। এতে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই কিছু সময় অন্তর অন্তর আপডেট করা উচিত। অনলাইনে রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেল খুলে আপনি আপডেট করতে পারবেন। এটার জন্য আপনার রাউটারের কোম্পানির ওয়েবসাইট খুলে সেটির মডেল নম্বর দেখে স্টেপ বাই স্টেপ গাইড দেখে নিন।
৬. সব সময় 2.4GHz ব্যবহার করছেন?
যদি আপনার রাউটারে 5GHz ব্যান্ডের সুবিধা থাকে, তাহলে ভিডিয়ো স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং বা বড় ফাইল ডাউনলোডের জন্য সেটিই ব্যবহার করুন। 2.4GHz-এর তুলনায় 5GHz সাধারণত দ্রুত গতি দেয়, যদিও এর রেঞ্জ কিছুটা কম।
৩০ দিনের ভ্যালিডিটিতে ৫৫ টাকার রিচার্জ প্ল্যান, ফের Jio-র মাস্ট্রারস্ট্রোক
৭. রাউটার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে?
রাউটার এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। রাউটার অতিরিক্ত গরম হলে ডিভাইসের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। রাউটারে হাওয়া চলাচল করতে না পারলে সেটা দুর্বল হয়ে যায়। (Tech Tips)
৮. মাসের পর মাস রাউটার রিস্টার্ট করছেন না?
দীর্ঘদিন রিস্টার্ট না করলে রাউটারের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একবার রাউটার বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড পর আবার চালু করলে অনেক ছোটখাটো সমস্যা দূর হয়। কিছু রাউটারে অটো আপডেট ফিচার আছে। রিস্টার্ট করলে সেটি অটো আপডেট হয়ে যায়।
৯. পুরনো বা নিম্নমানের কেবল ব্যবহার করছেন?
যদি কেবল ব্যবহার করেন তা হলে দেখে নিন সেটা কোথাও কাটা আছে কি না। অনেক সময় পুরোনো কেবল বা সেটায় যদি কাটা ছেঁড়া থাকে তা হলে সেটা কাজ করে না। ভালো মানের কেবল ব্যবহার করুন।
১০. ওয়াইফাইতেই সব সময় সর্বোচ্চ স্পিড পাবেন- এমনটা ভাবছেন?
অনেকেই মনে করেন ওয়াইফাই-তে সব সময় ব্রডব্যান্ডের সম্পূর্ণ গতি পাওয়া যাবে। বাস্তবে বিভিন্ন কারণে কিছুটা স্পিড কম হতে পারে। যদি সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সর্বোচ্চ গতি চান, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ল্যান কেবল ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।সময় সময় ইন্টারনেটের স্পিড পরীক্ষা করুন। আপনার প্ল্যানে যে স্পিড দেওয়ার কথা আছে, তার তুলনায় অনেক কম স্পিড পেলে প্রথমে নিজের ওয়াইফাই সেটআপ পরীক্ষা করুন। সবকিছু ঠিক থাকার পরও সমস্যা থাকলে তবেই পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। (Tech Tips)
এই সামান্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই ওয়াইফাইয়ের পারফরম্যান্স অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। ফলে ভিডিয়ো স্ট্রিমিং, অনলাইন ক্লাস, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, ভিডিয়ো কল কিংবা গেমিং—সব ক্ষেত্রেই মিলবে আরও দ্রুত, স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পরিষেবা।












1 thought on “নেট স্লো? ওয়াইফাইয়ে এই ভুলগুলো করছেন না তো?”