৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে চিনকে হারিয়ে সোনা এবে দিয়েছিল মেয়েরা। শনিবার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে দিল ভারতীয় পুরুষ হকি দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এর আগে কখনই পরপর দুইবার সোনা জিততে পারেনি ভারত। ১৯৬৬, ১৯৯৮, ২০১৪ এবং ২০২২ সালের পর ২০২৬ নাগোয়ায় এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। প্রথমবারের মতো জোড়া সোনা জিতে পোডিয়ামের শীর্ষে পৌঁছাল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল (asian games 2026)।
asian games 2026: প্রথম থেকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে মালয়েশিয়া
প্রথম থেকেই ডিফেন্সিভ ব্লকে খেলতে শুরু করে মালয়েশিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই মালয়েশিয়া বক্সে ১১ জনকেই নামিয়ে ডিফেন্সিভ ব্লকে খেলতে শুরু করে। তবে মালেশিয়াকে দমাতে বেশি সময় লাগেনি ভারতের। সপ্তম মিনিটে বিবেক সাগর প্রসাদের একটি রিভার্স হিট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ১১তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত। প্রথম সুযোগটি মনদীপ মিস করলেও দ্বিতীয়বারে মালয়েশিয়ান গোলরক্ষক মুহামাদ জাইমিকে পরাস্ত করে বুলেট ড্র্যাগ-ফ্লিকে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে ১৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আসা লং এরিয়াল বল চমৎকারভাবে নামিয়ে বাউন্সে চকিত হাফ-ভলিতে ১-১ সমতা ফেরান মালেশিয়ার শ্যালো সিলভেরিয়াস (asian games 2026)।
২৩ তম মিনিটে ফের পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শীলানন্দ লাকড়ার দুর্দান্ত গতির তারিফ করে অনেকেই। সেখান থেকে সপ্তম গোলটি করে দলকে ২-১ এগিয়ে দেন জুগরাজ সিং। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে ভারত আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে তোলে। ৩৫ ও ৪০ মিনিটে একাধিক সুযোগ নষ্ট হলেও ৪২তম মিনিটে বক্সের ভেতর মালয়েশিয়ার আইমান রোজেমির গায়ে বল লাগলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। স্পট থেকে গোলরক্ষককে উল্টো দিকে পাঠিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান ৩-১ করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হার্দিক সিং। এই গোলের পরই ভেঙে পড়ে মালয়েশিয়া শিবির এবং ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতে থাকে।
ভারত একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে থাকে চতুর্থ কোয়ার্টারে। টানা ছ’টি পেনাল্টি কর্নার অপচয় হলেও ভারত মাঠের রাশ হাতছাড়া করেনি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দিলপ্রীতের নিখুঁত বিল্ড-আপ থেকে বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে আসরে ভারতের একমাত্র ফিল্ড গোলটি নিখুঁত ফিনিশে জালে জড়ান সুপার-সাব শীলানন্দ লাকড়া (৪-১)। এরপর ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে মালয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন স্বয়ং হরমনপ্রীত সিং (৫-১)। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা।












