[ছবি:এক্স]
৪১ বছর বয়স। বেশিরভাগ ফুটবলারের কেরিয়ার তখন শেষের পথে। কিন্তু (Cristiano Ronaldo) ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো যেন সেই নিয়মই তুরি মেরে বদলে দিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে এখনও সমান ক্ষুধার্ত, সমান ফিট এবং আগের মতোই গোলের সন্ধানে তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই বয়সেও কীভাবে নিজেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো অবস্থায় রেখেছেন সিআর7? উত্তর একটাই— শৃঙ্খলা, কঠোর ডায়েট, নিয়মিত অনুশীলন এবং বৈজ্ঞানিক রিকভারি।
(Cristiano Ronaldo) রোনাল্দোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোনও আপস নেই। তিনি চিনি মেশানো পানীয়, জাঙ্ক ফুড এবং প্রসেসড খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন। সকালের খাবারে সাধারণত থাকে হ্যাম, চিজ, দই এবং তাজা ফলের রস। তিনবেলা ভারী খাবারের বদলে তিনি দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খান, যাতে শরীর সারাক্ষণ শক্তি পায় এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে।
🚨🚨 El cocinero saudí de Cristiano Ronaldo reveló hoy su dieta:
— Hombre Estratega. (@HombreEstratega) June 23, 2026
1. En su dieta, no se le permite ningún producto lácteo ni azúcar, es decir, cero azúcar por completo, y lo sorprendente es que Cristiano cada mañana… pic.twitter.com/iMrYEDIh71
খাবারের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মাছ। বিশেষ করে কড, টুনা ও সোর্ডফিশ তাঁর পছন্দের। পাশাপাশি থাকে চিকেনের মতো লিন প্রোটিন, অ্যাভোকাডো, নানা ধরনের ফল ও সবজি এবং ব্ল্যাক বা রেড রাইসের মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট। এই সুষম খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ফিটনেসের অন্যতম ভিত্তি।
ডায়েটের পাশাপাশি (Cristiano Ronaldo) রোনাল্দোর অনুশীলনও সমান কঠোর। জিমে শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত স্প্রিন্ট, অ্যাজিলিটি ড্রিল এবং ম্যাচ পরিস্থিতির অনুশীলন করেন তিনি। কোর শক্তিশালী রাখতে প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, লেগ রেইজের মতো ব্যায়াম তাঁর রুটিনের অপরিহার্য অংশ। প্রতিটি সেশনের আগে ও পরে স্ট্রেচিং করে চোটের ঝুঁকি কমান তিনি।
আরও পড়ুন :- ‘সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস খেলতে প্রস্তুত’, বারাণসীতে বিয়ে সারলেন ভারতীয় পেসার আকাশ দীপ
তবে রোনাল্দোর মতে, শুধু অনুশীলন করলেই হয় না, শরীরকে সঠিকভাবে বিশ্রাম দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দীর্ঘ একটানা ঘুমের বদলে দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট ঘুম নেন। পাশাপাশি আইস বাথ, ক্রায়োথেরাপি এবং নিয়মিত মাসাজের মাধ্যমে শরীরের ক্লান্তি দূর করেন। এই রিকভারি প্রক্রিয়াই তাঁকে ম্যাচের পর দ্রুত সতেজ হতে সাহায্য করে।
এই কঠোর জীবনযাপনের ফল মাঠেও স্পষ্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে রোনাল্দো ইতিহাস গড়েছেন। তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর (Cristiano Ronaldo) গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ১৪৫-এ, যা এখনও পুরুষদের ফুটবলে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রোনাল্দো। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ জয়ে জোড়া গোল করে তিনি জবাব দিয়েছেন নিজের মতো করেই। এই জয়ে নকআউট পর্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে পর্তুগাল।
এবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। নকআউটের আগে সেই ম্যাচেও নজর থাকবে রোনাল্দোর দিকে। কারণ ৪১ বছর বয়সেও তিনি শুধু রেকর্ড গড়ছেন না, প্রমাণ করে চলেছেন—শৃঙ্খলা, পরিশ্রম আর আত্মনিবেদন থাকলে বয়স কখনওই সাফল্যের বাধা হতে পারে না।
আরও পড়ুন :- ৩৯ সেকেন্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপ ভেনেজুয়েলা, ফিরে দেখুন বিশ্বের ৫ ভয়াবহতম ভূমিকম্প

