Site icon Hindustan News Point

‘দেশ আগে, ক্লাব পরে’, আনোয়ার প্রসঙ্গ টেনে মোহনবাগানকে খোঁচা ইস্টবেঙ্গলের

East Bengal FC

জাতীয় দলের ক্যাম্প, কোচের ভবিষ্যৎ, ক্লাবের দর্শন এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘিরে মন্তব্য— এক মঞ্চে যেন East Bengal FC-র বর্তমান মানসিকতার একাধিক ছবি তুলে ধরলেন ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল সংযম, তেমনই ছিল আবেগ। আর সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল একটাই বার্তা— দেশের ফুটবল সবার আগে।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফুটবলারদের যোগদান নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে দেবব্রত সরকার স্পষ্ট করে দেন, ইস্টবেঙ্গলের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও জায়গা নেই। তাঁর কথায়, সংবাদমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও (East Bengal FC) ক্লাবের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই যে কেউ জাতীয় দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির নাম। জানান, আনোয়ার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেয়নি শুধুমাত্র চোটের কারণে এবং সেই বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার— চোট খেলারই অংশ, কিন্তু জাতীয় দায়িত্বকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই।

ইউনিটি কাপ খেলতে যাওয়ার আগে ডাক, জাতীয় দল থেকে প্লেয়ার ফেরাল মোহনবাগান

তিনি বলেন, আনোয়ার বাদে ইস্টবেঙ্গলের বাকি সব ফুটবলার জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়েছে। এরপরই আসে তাঁর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য — “দেশের ফুটবল সবার আগে। দেশের ফুটবল এগোলে তবেই ক্লাব ফুটবলও এগোবে। এটাই (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের পরম্পরা।”

এরপর আলোচনায় উঠে আসে কোচ অস্কার ব্রুজোর ভবিষ্যৎ। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা থাকলেও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্কার বর্তমানে গোয়ায় রয়েছেন, ফিরে এসে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে একটি বিষয় তিনি গোপন করেননি— ইস্টবেঙ্গল কোচকে ধরে রাখতে আগ্রহী। সরাসরি বলেন, “আমরা অস্কারকে রাখতে চাই, দেখা যাক কী হয়।”

কিন্তু প্রেস কনফারেন্সের সবচেয়ে আবেগঘন এবং আলোচিত অংশ আসে যখন প্রসঙ্গ ঘুরে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের দিকে।

দেবব্রত সরকার সরাসরি নাম না করেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— মোহনবাগান কর্তারা আগে নিজেদের সাফল্যের হিসেব দিন, তারপর ইস্টবেঙ্গল উত্তর দেবে। তবে সেই কথার মধ্যেও ছিল পুরনো কলকাতা ডার্বির পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কিন্তু প্রকাশ্য শত্রুতা নয়।

সবচেয়ে আবেগী অংশ আসে ক্লাবের পরিচয় ও অতীত নিয়ে বলতে গিয়ে। তিনি স্মরণ করান (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের উদ্বাস্তু-ইতিহাসকে। বলেন, “অতীতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে বিনিয়োগ ও জোটের প্রস্তাব এলেও ক্লাব সব শর্ত মেনে এগোয়নি, কারণ এই ক্লাব শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়— এটি মানুষের আবেগ, ইতিহাস আর আত্মপরিচয়ের অংশ। ইস্টবেঙ্গলের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯২০ সালে যাঁরা এই ক্লাব গড়ে তুলেছিলেন, যাঁদের আবেগ ও ত্যাগের ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আজকের ইস্টবেঙ্গল— তাঁদের উদ্দেশেই এই ট্রফি উৎসর্গ করা হচ্ছে।” ইতিহাসের প্রসঙ্গে উঠে আসে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নামও। পাশাপাশি আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন জীবনদা, পল্টুদা, স্বপনদাদের অবদান।

এছাড়াও ক্লাবের ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন দেবব্রত সরকার। স্পনসর ইমামি ক্লাব ছেড়ে যেতে পারে— এমন জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন কোনও সংবাদ আমাদের কাছে নেই।”

১৩ কোটির দেনা, ৬১% শেয়ার ছাড়তেও রাজি মহামেডান!আইএসএলের ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?

বরং সামনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্লাবের দায়িত্বের কথাই তুলে ধরেন তিনি। জানান, ইস্টবেঙ্গল এএফসি প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে এবং সেই কারণেই ক্লাব সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে, যাতে প্রস্তুতি শুরু করা যায়।

(East Bengal FC) ক্লাবের সাম্প্রতিক সাফল্য উদযাপন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ক্রীড়ামন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং ১ আগস্টের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজনের ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

উৎসব নিয়েও আক্ষেপ শোনা যায় তাঁর গলায়। জানান, সমর্থকদের জন্য ওপেন বাস সেলিব্রেশনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্রফি জয়ের আনন্দকে কোনওভাবেই ছোট করে দেখা উচিত নয় বলেও মত তাঁর।

(East Bengal FC) ক্লাবের পথচলা নিয়ে তাঁর বার্তা ছিল আরও স্পষ্ট— “ব্যর্থতা সাফল্যেরই অংশ। পরিশ্রম করতে হয়, লড়াই করতে হয়। আমরা লড়াইয়ের মাঠে ছিলাম, আছি, থাকব। সমালোচনা আমরা উপভোগ করি।” পাশাপাশি আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী শোনায় তাঁকে।

শীর্ষকর্তার বক্তব্যে যেন ফুটে উঠল এক পুরনো ফুটবল দর্শন— প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তর্ক থাকবে কিন্তু ক্লাবের মর্যাদা আর দেশের ফুটবলের স্বার্থ, দুটোই একসঙ্গে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।


Exit mobile version