বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল প্রতিষ্ঠান মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohamedan SC) এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার ক্লাবকে লড়তে হচ্ছে আর্থিক সংকটের বিরুদ্ধে। বহুদিনের স্পনসর সমস্যার জেরে ক্লাবের ওপর তৈরি হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার দেনার চাপ। সেই পরিস্থিতিতে প্রথমবার প্রকাশ্যে বড় বার্তা দিল ক্লাব— উপযুক্ত বিনিয়োগকারী এলে ক্লাবের ৬১ শতাংশ শেয়ার ছাড়তেও প্রস্তুত ম্যানেজমেন্ট।
আইএসএলে টানা দুই মরসুম খেললেও আর্থিক স্থিতি ফেরেনি মহামেডানের (Mohamedan SC)। নতুন মরসুমের আগে দল গঠন, প্লেয়ার রিটেনশন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ চালাতে নতুন মূলধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই এবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে যাঁরা অতীতে ক্লাবের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তাঁদের কাছে।
(Mohamedan SC) ক্লাবের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী, হুমায়ুন কবীর এবং প্রাক্তন বিনিয়োগকারী দীপক সিংয়ের কাছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মহামেডান বর্তমানে কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি সম্ভাব্য ইনভেস্টর নিয়ে তাঁদের ভিশন, পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা করতে চায় ক্লাব।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বক্তব্যে স্পষ্ট— মহামেডান এখনও নির্বাচিত প্রশাসনের অধীনেই চলছে এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত বৈধ। অর্থাৎ বিনিয়োগ এলেও ক্লাব পুরোপুরি হস্তান্তরের পথে হাঁটতে চাইছে না বরং প্রশাসনিক স্থিতি বজায় রেখে আর্থিক পুনর্গঠনের রাস্তা খুঁজছে।
কার্যনির্বাহী সভাপতি কামরুদ্দিন জানিয়েছেন, আইএসএলের বর্তমান কাঠামোয় বড় ক্লাবগুলোর টিকে থাকার জন্য শক্তিশালী আর্থিক অংশীদার প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই ক্লাব (Mohamedan SC) এখন যাঁরা প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
‘দেশ আগে, ক্লাব পরে’, আনোয়ার প্রসঙ্গ টেনে মোহনবাগানকে খোঁচা ইস্টবেঙ্গলের: ১৩ কোটির দেনা, ৬১% শেয়ার ছাড়তেও রাজি মহামেডান!আইএসএলের ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— যদি কোনও ইনভেস্টর না আসে?
সেক্ষেত্রে (Mohamedan SC) মহামেডানের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করতে পারে। ১৩ কোটির দেনা মেটানোর চাপ বাড়বে, নতুন মরসুমের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন কঠিন হবে, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক অংশীদার আকর্ষণ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড় নিয়োগ, পরিকাঠামো এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, যদি নতুন বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসে এবং দেনা পুনর্গঠনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা দেয়, তাহলে মহামেডানের সামনে খুলে যেতে পারে নতুন অধ্যায়। আর্থিক স্থিতি ফিরবে, উন্নত স্কোয়াড গঠন সম্ভব হবে, ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালুও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় কথা— বহুদিন পর সমর্থকদের সামনে তৈরি হতে পারে স্থায়ী পুনর্জাগরণের আশা।
এখন অপেক্ষা একটাই— চিঠির জবাব আসে কি না, আর সেই উত্তর মহামেডানের ভবিষ্যতকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
ইউনিটি কাপ খেলতে যাওয়ার আগে ডাক, জাতীয় দল থেকে প্লেয়ার ফেরাল মোহনবাগান












1 thought on “১৩ কোটির দেনা, ৬১% শেয়ার ছাড়তেও রাজি মহামেডান!আইএসএলের ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?”