মহারাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল ‘মহারাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন- ২০২৬’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের পর রাজ্য সরকার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর ফলে আইনটি কার্যকর হওয়া দেশের ১৩তম রাজ্য হিসেবে নাম লেখাল মহারাষ্ট্র। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস সরকারের দাবি, জোরপূর্বক, প্রতারণা, প্রলোভন বা বিয়ের নামে ধর্মান্তরণ রোধ করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। (Maharashtra Religious Freedom Act 2026)
জোর করে ধর্মান্তরণে জামিন-অযোগ্য মামলা
নতুন আইনে বলপ্রয়োগ, ভয় দেখানো, প্রতারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা আর্থিক এবং অন্য কোনও প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণ করানোকে জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি বেড়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। (Maharashtra Religious Freedom Act 2026)
নাবালক ও মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও কড়া ব্যবস্থা
আইনে নাবালক, মহিলা, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির সদস্যদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশও রয়েছে।
৬০ দিনের নোটিশ বাধ্যতামূলক
নতুন আইনে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধর্মান্তরণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অন্তত ৬০ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। প্রশাসনের যাচাইয়ের পরেই ধর্ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে।
বিরোধীদের আপত্তি
রাজ্য সরকারের দাবি, এই আইন কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আনা হয়নি। তবে বিরোধী দল এবং মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, আইনের কিছু ধারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই আইনের অপব্যবহারের সম্ভাবনাও থেকে যেতে পারে। (Maharashtra Religious Freedom Act 2026)
আরও পড়ুন :- শান্তির আবহেই ট্রাম্পের কড়া বার্তা ইরানকে, সামনে শুধু দুটি পথ












2 thoughts on “রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর মহারাষ্ট্রে কার্যকর ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, কড়া শাস্তির বিধান”