বিজেপি বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের। সম্প্রতি বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির একটি ভাইরাল ভিডিয়োকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন ইন্দাস ব্লকের আশা কর্মীরা। মঙ্গলবার তাঁরাই কালো ব্যাজ পরে হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইন্দাস ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর দফতরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি চন্দনা বাউড়িকে অবিলম্বে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।
এদিন বিক্ষোভ শুরুর আগে সম্প্রতি প্রয়াত আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান আন্দোলনকারীরা। মাটিতে বসে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি পরে বিডিও-র কাছে নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানিয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপিও জমা দেন। (Protest of Asha Workers)
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিয়োতে শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি এক আশা কর্মীকে ধমক দিচ্ছেন এবং আশা কর্মীদের ‘চোর’ বলে মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি বলেছেন, আশা কর্মীরা “চুরি করে চাকরি পেয়েছে”। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত কর্মীরা।
এদিকে, গত ৩ আগস্ট বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের। এই ঘটনাকেও সামনে এনে আশা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের নির্ধারিত কাজের বাইরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই একাধিক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপের জেরেই রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। (Protest of Asha Workers)
পড়ুয়াদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র পাটনা, মিছিল আটকাতে জলকামান পুলিশের
এই বিষয়ে ইন্দাস ব্লকের আশা কর্মী কেয়া দত্ত বলেন, তাঁদের এই আন্দোলন চন্দনা বাউড়ির বিরুদ্ধে। তাঁর কথায় তাঁদের সহকর্মীরা অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বিধায়কের অপমানজনক কথায় আহত হয়েই মারা গেছেন। কীভাবে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে পারেন? প্রশ্ন করেন কেয়া দত্ত।
তিনি বলেন, ‘যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে দিয়েছেন বেগুনি শাড়ি দেখলেই আশাকর্মীদের সম্মান জানাতে সেখানে সেই সরকারেরই ক্ষমতায় থাকা অন্যান্য ব্যক্তিরা এভাবে আশা কর্মীদের অপমান করছেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা বিডিও দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান।’ (Protest of Asha Workers)
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি যদি তাঁর আনা অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে তাঁকে প্রকাশ্যে সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন আশা কর্মীরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আরও বড় আকারে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।








