শতাব্দী পেরিয়েও ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আবেগ, আত্মপরিচয় এবং সংগ্রামের প্রতীক। (East Bengal Day) সেই আবেগই শনিবার নতুন করে ধরা পড়ল শিলিগুড়িতে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবং শিলিগুড়ি ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের ১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একসঙ্গে উদযাপনে লাল-হলুদ রঙে রাঙিয়ে উঠল শহর। কেক কাটা, পতাকা উত্তোলন, শুভেচ্ছা বিনিময় আর ক্লাবের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণে দিনটি হয়ে উঠল আবেগঘন।
East Bengal Day: কেক কাটা থেকে সংবর্ধনা, উৎসবে মেতে উঠলেন সমর্থকেরা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব এবং রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কেক কেটে এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক উদযাপন।
‘ইস্টবেঙ্গল মানেই লড়াইয়ের প্রতীক’—গৌতম দেব
(East Bengal Day) অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব বলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাব মানেই লড়াইয়ের প্রতীক। ওপার বাংলা থেকে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের সংঘটিত করেই এই ক্লাবের জন্ম। দেখতে দেখতে ১০৭ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। ক্লাব আজ অনেক দূর এগিয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের ইতিহাস, উদ্বাস্তু মানুষের সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের আত্মিক সম্পর্ক।
ছাঙতের যোগদানের আনন্দ মাটি করে দিল কাস্টমসের কাছে হার, গোলশূন্যই রইল মোহনবাগান
‘মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলই ফুটবলের অক্সিজেন ও জল’
নিজের ছোটবেলার স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, নতুন প্রজন্মকে আবার মাঠমুখী করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় জাতীয় দলে একাধিক বাঙালি ফুটবলার থাকলেও এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। সরকার, ক্লাব এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমাদের বাঙালির প্রিয় খেলা ফুটবল। আর মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল এই ফুটবলের অক্সিজেন ও জল। শিলিগুড়িকে ইস্টবেঙ্গলের শহর হিসেবেও অনেকে চেনেন। উত্তরবঙ্গে ছিন্নমূল মানুষের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সম্পর্ক সরাসরি জড়িত। ক্লাবের ইতিহাস আত্মসম্মান ও অহংকারের লড়াইয়ের ইতিহাস। আশা করি, ক্লাব তার ঐতিহ্য, গরিমা ও সম্মান নিয়ে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে।”(East Bengal Day)
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে নতুন রূপ দেওয়ার আশ্বাস
(East Bengal Day) অনুষ্ঠান থেকেই শিলিগুড়ির ঐতিহ্যবাহী কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সংস্কার নিয়েও আশ্বাস দেন পর্যটন মন্ত্রী। তিনি জানান, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ইতিমধ্যেই স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। পুর নগর উন্নয়ন দফতর, কর্পোরেশনের প্রশাসক ও কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। স্টেডিয়ামকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি স্পোর্টস মিউজিয়ামকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় এই মাঠেই কলকাতা ডার্বি ও সন্তোষ ট্রফির ম্যাচ হয়েছে এবং শহরের বিধায়ক হিসেবে স্টেডিয়ামের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তা করার আশ্বাস দেন।
East Bengal Day: ইতিহাস, আবেগ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন
১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আজও শুধু ট্রফির জন্য নয়, ছিন্নমূল মানুষের আত্মপরিচয়, সংগ্রাম এবং গর্বের প্রতীক। তাই ১০৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে শিলিগুড়ির লাল-হলুদ সমর্থকদের কণ্ঠে একটাই বার্তা—ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ক্লাব নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা এক আবেগের নাম। আর সেই আবেগকে সঙ্গী করেই আগামী দিনের আরও সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে শিলিগুড়ির লাল-হলুদ পরিবার।
মোহনবাগানে ‘মিজো ফ্ল্যাশ’, তিন বছরের চুক্তিতে সবুজ-মেরুন শিবিরে ভারতের তারকা উইঙ্গার










