প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। একই সঙ্গে আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচন থেকে শহরের অবৈধ পার্কিং রুখতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ও ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
সেখানেই মন্ত্রী জানান, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাসভবনকে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবেন তিনি। পাশাপাশি শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে করার প্রস্তাবও রাজ্য সরকারের কাছে রাখা হবে। মন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
‘বাংলার গর্বকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে’, অগ্নিমিত্রা পাল
আজ ৪ আগস্ট, প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মজয়ন্তী। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্যামবাজারের রামধন মিত্র লেনে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ঐতিহ্যবাহী বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এবং প্রয়াত শিল্পীর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ আজও বাঙালির আবেগের অন্যতম অংশ। অথচ এতদিন তাঁর স্মৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলেই এদিন আক্ষেপ প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি ও মনীষীদের অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে। শুধু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রই নন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ঐতিহাসিক বাসভবনগুলিকেও সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হুগলির বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মেট্রো স্টেশনের নাম বদলের প্রস্তাব
মন্ত্রী জানান, কলকাতার বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের নাম ইতিমধ্যেই মহানায়ক উত্তম কুমার, কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সুকান্ত ভট্টাচার্য-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নামে রয়েছে। সেই তালিকায় এবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামও যুক্ত হওয়া উচিত বলে তাঁর মত। এজন্য শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও আকাশবাণী ভবন চত্বরে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের একটি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচন নিয়েও মুখ খোলেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তাঁর দাবি, “জনসংখ্যার একটা বিষয় রয়েছে। পরিষেবাটা যেন মানুষ পান। বিরাট একটা ওয়ার্ড, সেখানে মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। একটা ওয়ার্ডের সাইজ দুটো-তিনটে ওয়ার্ডের মতো। আবার একটা ওয়ার্ড রয়েছে খুবই ছোট। সেই কাউন্সিলর কিন্তু একই টাকা পান। একটা বড় ওয়ার্ডে যা টাকা পায়, ছোট ওয়ার্ডেও সেই টাকা পায়। সেটা তো হতে পারে না।”
মন্ত্রী জানান, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরভোটের আগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে, কালোবাজারি রুখতে কড়া প্রশাসন
বেআইনি পার্কিংয়ে কড়া নজর, আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা
কলকাতার বেআইনি পার্কিং নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতা পুলিশ প্রায় ১৫ হাজার পার্কিং এলাকা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ৯ থেকে ১০ হাজার পার্কিং ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার তালিকাভুক্ত। বাকি জায়গাগুলিও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হবে।
অগ্নিমিত্রা জানান, ভবিষ্যতে প্রতিটি অনুমোদিত পার্কিংয়ে নির্দিষ্ট পোশাক পরা কর্মী থাকবেন। তাঁদের পরিচয়পত্রে ছবি থাকবে এবং সব ধরনের পার্কিং ফি একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নেওয়া হবে। নগদ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পার্কিং এলাকায় নির্দিষ্ট হারের তালিকাও প্রকাশ্যে টাঙানো থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ না থাকে।
তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে কটাক্ষ
একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের নেতা, মন্ত্রী বা কর্মীদের যেসমস্ত দুর্নীতির ছবি উঠে আসছে সেই প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। শুধু বীরভূমে একা টুলু মন্ডল নয় এরকম আরো অনেকেই রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত পাচারের মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী।
সব মিলিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এই একাধিক ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ, অন্যদিকে শহরের নাগরিক পরিষেবা ও পার্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা—দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।








