ভারতীয় ফুটবলের সোনালি অধ্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম অলোক মুখোপাধ্যায়। সেই অলোকের দীর্ঘ ফুটবলজীবনের গল্প, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ এবার ধরা পড়ল আত্মজীবনীর পাতায় (Aloke Mukherjee Autobiography)। রবিবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে ঘটা করে প্রকাশিত হল তাঁর আত্মজীবনী ‘লাল কার্ডের বাইরে’। বইটির লেখক ক্রীড়া সাংবাদিক অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রকাশ করেছে দীপ প্রকাশন।

অনুষ্ঠানটি যেন একরকম ফুটবল পুনর্মিলনী। উপস্থিত ছিলেন অলোকের একদা সতীর্থ ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। ছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত ও ইস্টবেঙ্গল-এর শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার।
সাইডব্যাকের মতো কঠিন পজিশনে খেলেও অলোক মুখোপাধ্যায়ের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি কখনও লাল কার্ড দেখেননি। শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রণ ও ভদ্র আচরণই ছিল তাঁর ফুটবলের মূল শক্তি। বিকাশ পাঁজি বলেন, এই দিক থেকে অলোক আজও সকল ফুটবলারের কাছে আদর্শ। বাইচুং ভুটিয়া জানান, অলোকের কোচিংয়েই তিনি জাতীয় দলের সেরা পাঁচ বছর কাটিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে দুই প্রধান ক্লাবের তরফে অলোককে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। ইস্টবেঙ্গল তুলে দেয় লাল-হলুদ জার্সি ও গোলাপ, মোহনবাগান দেয় সবুজ-মেরুন উত্তরীয়। দুই ক্লাবই ঘোষণা করে, এই বই তাদের লাইব্রেরিতে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পড়তে পারে।
সবশেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অলোক মুখোপাধ্যায়। চোখের জল সামলে জানান, প্রথমে তিনি আত্মজীবনী লেখার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বুঝেছেন, এই গল্প তাঁর একার নয়—এটা তাঁর সতীর্থ, কোচ ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার গল্প। ফুটবল যেখানে আজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কায়, সেখানে এই অনুষ্ঠান ফের একবার ভারতীয় ফুটবলের গৌরবময় অতীতকে মনে করিয়ে দিল।
রিপোর্টিং: দেবাঞ্জন ব্যানার্জি ও আস্থা সিং










