বিশ্বকাপ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামবে না, এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে, নকআউট পর্বে যদি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন কী করবে পাকিস্তান? যদিও এতদূর আগাম পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি পাকিস্তান সরকার বা পিসিবি। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান কার্যত নিজের পায়েই কুড়ুল মেরেছে এবং এর জেরে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
পাকিস্তান কেন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রভাব ক্রিকেটে পড়েছে। তবে এই বিশ্বকাপে ভারত সরকার বা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কোনও সংঘাত হয়নি পাকিস্তানের। মূলত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার আবেদন জানালেও আইসিসি তা মানেনি এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই পাকিস্তানের এই বয়কট।
ঘুরপথে পাকিস্তানকে হুমকি, বয়কট বিতর্কে মুখ খুলল ICC
এই অবস্থানে পাকিস্তান একাধিক বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে। প্রথমত, বিশ্বকাপের পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট ভাঙার অভিযোগ উঠতে পারে। একটি ম্যাচ না খেলাও চুক্তি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে, যার ফলে আইসিসির রাজস্ব বণ্টন থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কাটা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল আইসিসি।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা এলে বিপাকে পড়বে পাকিস্তান সুপার লিগ। বিদেশি ক্রিকেটাররা এনওসি না পাওয়ায় খেলতে নাও আসতে পারেন। বন্ধ হতে পারে দ্বিপাক্ষিক সিরিজও, যার ফলে বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান যে নিজের জন্য বড় সংকট ডেকে আনল, তা মানছেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ।
বিশ্বকাপে নয় ভারত-পাক ম্যাচ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল পাকিস্তান










