ইডেন গার্ডেন্সে রবিবার ভারতের সামনে কার্যত ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। সমীকরণ একেবারে পরিষ্কার—ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই সরাসরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে টিম ইন্ডিয়া (India vs West Indies)। তবে প্রতিপক্ষ যে মোটেও সহজ নয়, তা ভালোভাবেই বুঝছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
বর্তমান ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লাল বলের ক্রিকেটে আগের মতো শক্তিশালী না হলেও সাদা বলের ফরম্যাটে এখনও ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্যারিবিয়ানরা যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। শিমরন হেটমায়ার, শেরফান রাদারফোর্ড, রোভমান পাওয়েল, রোমারিও শেফার্ড ও জেসন হোল্ডারের মতো পাওয়ার হিটারদের নিয়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ অত্যন্ত গভীর। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে স্পষ্টই জানিয়েছেন, ইডেনে হতে চলেছে “আগুনে আগুনে লড়াই”। তাঁর কথায়, শুরুতেই উইকেট তুলতে না পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় জুটি গড়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে ক্যারিবিয়ান শিবিরেও আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। কোচ ড্যারেন সামি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচকে ‘ডেভিড বনাম গলিয়াথ’-এর লড়াই বলে উল্লেখ করলেও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার বার্তাই দিয়েছেন। ২০১৬ সালে ইডেনেই বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এখনও দলকে অনুপ্রাণিত করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ধাক্কা খেলেও সেই ম্যাচ পিছনে ফেলে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত হেটমায়াররা।
ভারতীয় শিবিরে অবশ্য আবেগঘন মুহূর্তও রয়েছে। পিতৃবিয়োগের ধাক্কা সামলে রিঙ্কু সিং দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, যা ড্রেসিংরুমে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। ব্যাটিং বিভাগেও আত্মবিশ্বাস ফিরেছে—ওপেনে সঞ্জু স্যামসনের ছন্দে ফেরা, মাঝের সারিতে সূর্যকুমার ও ঈশানের রান এবং লোয়ার অর্ডারে তিলক বর্মার বিস্ফোরক ইনিংস ভারতের শক্তি বাড়িয়েছে।
ইডেনের পিচ নিয়েও আশাবাদী ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ গৌতম গম্ভীর নিজে কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে বিশ্বকাপ জার্সি উপহার দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
৮০ হাজার দর্শকের গর্জনে রবিবার ইডেনে নামবে দুই দল। লক্ষ্য একটাই—শেষ চার। এখন দেখার, ঘরের মাঠে ভারত এগিয়ে যায়, নাকি ক্যারিবিয়ানরা আবার ইতিহাস লিখে ফেলে।












