চলতি আইপিএলে এখনও জয়ের মুখ দেখেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই আবহে আজ, রবিবার দুপুরে ইডেনে নাইট বনাম রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ। একটি দল চলতি আইপিএলে প্রথম জয়ের খোঁজে। অন্যটি ফের জয়ের সরণিতে ফিরতে মরিয়া। তবে প্রতিপক্ষ দলের ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভবই এখন কেকেআর এর পথের কাঁটা। কীভাবে এই ঝড় কে সামলাবে নাইটরা?
গত তিনদিন ধরে কলকাতায় ঘাটি গেড়ে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল রাজস্থান রয়্যালস। দুপুরে ম্যাচ। ফলে কলকাতার গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার,ইডেনের পিচের চরিত্র বোঝার বিষয়টি মাথায় রেখেই রবীন্দ্র জাদেজাদের আগেভাগে কলকাতায় ঢুকে পড়া। ওদিকে বরুন চক্রবর্তী এবং সুনীল নারিনদের স্পিনের রহস্য সমাধানের খোঁজ করেছে রাজস্থান। (IPL 2026)
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রাজস্থান রয়্যালসের কোচ কুমার সাঙ্গাকারা জানিয়েছেন, “শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আমরা ২১৭ রান তাড়া করতে নেমে কিছুটা চাপে পড়েছিলাম। ওদের দুই তরুণ বোলার খুব ভালো বল করে আমাদের চমকে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হঠাৎ উইকেট পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ইতিবাচক দিক হল, পাঁচ উইকেট পড়ার পরও আমরা ১৬০ পর্যন্ত গিয়েছি।” পরাজিত হয়েই ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়ার কথা বলছেন রাজস্থান কোচ। ডোনাভন ফেরেইরা ও রবীন্দ্র জাদেজার লড়াকু ইনিংসেরও প্রশংসা করেন তিনি।
মিডল অর্ডারে রিয়ান পরাগএর ফর্মে নেই। গত দুদিন ধরে অনুশীলনে রিয়ান ব্যস্ত রইলেন ছন্দ ফিরে পেতে। তাঁকে নিয়ে কোচও আশাবাদী। “রিয়ান ভালো খেলছে, টাইমিং ও শট নির্বাচন ঠিক আছে। সবসময় রান আসবে না, কিন্তু প্রভাব তৈরি করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ও শিগগিরই বড় ইনিংস খেলবে,” বলেছেন সাঙ্গাকারা।
১ রানে ১০টি গাছ, বাংলাকে সবুজ করতে KKR এর নয়া উদ্যোগ ‘রানস টু রুটস’
তবে আলোচনার কেন্দ্রে সেই ‘বিস্ময় বালক’ বৈভব সূর্যবংশী। পনেরো বছর বয়সী কিশোর ইতিমধ্যে ক্রিকেট দুনিয়ায় শোরগোল ফেলেছেন। দেশের হয়ে এখনও প্রতিনিধিত্ব করেননি তার আগেই এই বৈভবকে নিয়ে মাতামাতি। যদিও শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন। বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেওয়া অভ্যাস করে ফেলা বৈভবের ব্যর্থতায় চমকে গিয়েছিল সকলে। ব্যর্থতার ধাক্কায় হতবাক বৈভব স্বয়ং। (IPL 2026)
কলকাতায় পা দিয়ে প্রথম থেকেই নেটে ঝড়ো ব্যাটিং করেন তিনি। গতবছর ইডেনে বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। রবিবার ইডেনে বৈভবের পরিবার এবং ছোটবেলার কোচ আসছেন নাইট বনাম রাজস্থানের ম্যাচ দেখতে। বাবা মায়ের সামনে বড় রান করার প্রতিজ্ঞা বৈভবের ব্যাটে। তবে হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে বৈভবের প্রথম বলেই আউট হওয়াকে অফফর্ম বলতে নারাজ সাঙ্গাকারা। তাঁর মতে, “এটা ব্যর্থতা নয়। শতরান হোক বা শূন্য সবই খেলার অংশ। গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের স্বাভাবিক খেলাটা চালিয়ে যাওয়া।”
নাইটদের বিরুদ্ধে দলের কম্বিনেশন নিয়ে খুব বেশি ভাবতে নারাজ রাজস্থান কোচ। তাঁর মতে, “প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শক্তি ও দুর্বলতা আছে। নিজেদের শক্তিতে ভরসা রাখা জরুরি। টি-টোয়েন্টির আকর্ষণই এই সঠিক কম্বিনেশন বেছে নেওয়া।” (IPL 2026)
উল্টোদিকে প্রতিপক্ষ কেকেআরের হারের ধারা অব্যাহত। ছয় ম্যাচে পাঁচ হার। বেকায়দায় থাকা প্রতিপক্ষ দেখে রাশ আলগা না করার কথা বলছেন সাঙ্গাকারা। বরং কেকেআরকে নিয়ে সমীহর সুর। “ওরা শক্তিশালী দল। শুধু রেকর্ড দেখে বিচার করা যায় না। আমরা কোনও দলকে হালকাভাবে নিচ্ছি না,” বলছেন সাঙ্গাকারা।আইপিএলের মাঝপথে পরিশ্রম পরিকল্পনা সঠিক ভারসাম্য জরুরি বলছেন সাঙ্গাকারা। “ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক হতে হবে, কিন্তু বোলিংয়ে পরিকল্পনা মেনে চলা জরুরি। কখনও ‘বোরিং’ ক্রিকেট খেলাও দরকার।”
এদিকে রিয়ান পরাগের অফ ফর্ম যদি রাজস্থানের চিন্তা হয় তাহলে ধ্রুব জুরেল-এর পারফরম্যান্সে স্বস্তির ঝলক। তাঁর উন্নতির কারণ হিসেবে সাঙ্গাকারা বলছেন, “ও এখন নিজের ভূমিকা পরিষ্কারভাবে বুঝেছে। দলের সমর্থন পাচ্ছে, তাই আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারছে।” (IPL 2026)
সব মিলিয়ে, ইডেনে রবিবাসরীয় লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী রাজস্থান। কেকেআরকে তাদেরই মাঠে কঠিন অঙ্ক কষতে দিতে চান রবীন্দ্র জাদেজা,জোফ্রা আর্চাররা।

