Site icon Hindustan News Point

‘কেউ আমাদের সাহায্য করেনি’— ফিফার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মেহদি তারেমি

Mehdi Taremi

[ছবি:এক্স]

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধার বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে ইরানকে। দলের অধিনায়ক (Mehdi Taremi) মেহদি তারেমি বিশ্বকাপকে সরাসরি ‘ডিজাস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ আখ্যা দিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আয়োজক দেশ আমেরিকার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। ভিসা জটিলতা, লাগাতার যাতায়াত, সাপোর্ট স্টাফের অনুপস্থিতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপ অভিযান চালাতে হয়েছে ইরানকে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অভিযান মাঠের ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের বাইরের বিতর্ককে কেন্দ্র করে। দলের অধিনায়ক (Mehdi Taremi) মেহদি তারেমি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা এবং তাদের সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চলতি বিশ্বকাপকে সরাসরি “ডিজাস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ” বলে অভিহিত করেছেন।

শনিবার সিয়াটলে গ্রুপ-জি-র শেষ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে (Mehdi Taremi) তারেমি বলেন, “এটা একটা ডিজাস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ, সম্পূর্ণ বিপর্যয়। ফিফার কাজ ছিল সমস্ত সমস্যার সমাধান করা, কিন্তু শুরু থেকেই তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ম্যাচের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটা তো সবে শুরু’। অথচ গ্রুপ পর্বই শেষ হয়ে গেল।”

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগে পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না যে ইরান আদৌ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে কি না। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে ইরানি দল ভিসা পায়। প্রথমে তাদের অ্যারিজোনার টাকসনে বেস ক্যাম্প করার কথা থাকলেও আমেরিকা প্রশাসনের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর টিজুয়ানাকে বেস হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হয় ইরান।

এরপর থেকেই শুরু হয় দুর্ভোগ। লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার পরই একই রাতে দলকে আমেরিকা ছেড়ে টিজুয়ানায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এমনকি সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচের পরও তাদের দ্রুত মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়েছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় সাপোর্ট স্টাফদের নিয়ে। ভিসা না পাওয়ায় ইরানের লজিস্টিকস এবং রিকভারি টিমের একাধিক সদস্য বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে (Mehdi Taremi) তারেমি বলেন, “আমাদের লজিস্টিকস টিমের লোকজনই এখানে নেই, কারণ তাঁরা ভিসা পায়নি। আমরা টিজুয়ানার মানুষদের ভালোবাসি, মেক্সিকোকেও সম্মান করি। কিন্তু একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এভাবে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করা মোটেই ন্যায্য নয়। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি।”

আরও পড়ুন :- ৩২-এর মধ্যে চূড়ান্ত ১৯ দল, দেখে নিন বিশ্বকাপে কোন দল কার বিরুদ্ধে খেলবে?

(Mehdi Taremi) তিনি আরও বলেন, “আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলে সঙ্গে সঙ্গে টিজুয়ানায় ফিরে যাওয়া কীভাবে সম্ভব? যদি তারা আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দিতে চাইত, তাহলে সরাসরি বললেই হতো।”

ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়িও অধিনায়কের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আয়োজক দেশ আমেরিকা ইরানের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করেছে। গালেনোয়ি বলেন, “যদি আমাদের দুই সপ্তাহ আগে আসতে দেওয়া হতো, তাহলে আমরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকতে পারতাম। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি ফিফার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে কোনও আয়োজক দেশ যেন কোনও দলের সঙ্গে এভাবে আচরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

গ্রুপ-জি-তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইরান। মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে শোজা খলিলজাদেহ গোল করলেও VAR এর মাধ্যমে তা অফসাইড বলে বাতিল হয়। ফলে এখন শেষ ষোলোয় যাওয়ার ভাগ্য নির্ভর করছে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের উপর। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ড্র হলে, কঙ্গো যদি উজবেকিস্তানকে হারায় এবং ঘানা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ড্র হয়, তাহলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে ইরান।

তবুও হতাশার মাঝেও গালেনোয়ি দাবি করেছেন, “আমরা যুদ্ধ, ভিসা সমস্যা, বৈষম্য এবং নানা বাধার মধ্যেও লড়াই করেছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে যে ইরানের মানুষ এবং ফুটবলাররা কতটা দৃঢ়চেতা।”

আরও পড়ুন :- ‘বাবা, গোল হয়েছে!’— চোখে দেখতে না পাওয়া বাবার হাত ধরে রোনাল্দোর ইতিহাসের সাক্ষী খুদে ভক্ত


Exit mobile version