অনেক টালবাহানার পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL 2026)। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বল গড়ানোর ঘোষণা হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এ বারের আইএসএল যে বিশেষ করে বাংলার জন্য ঐতিহাসিক, তা বলাই যায়। কারণ এই মরসুমে একসঙ্গে চারটি ক্লাব বাংলাকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে চলতি মরসুমে ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রে ফের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা ও বাংলা।
এ বারের আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল এফসি তাদের ঘরের ম্যাচ খেলবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামে দুই প্রধানের ম্যাচ মানেই উপচে পড়া গ্যালারি ও তুঙ্গ উত্তেজনা। পাশাপাশি আইএসএলে অভিষেক মরসুমে মহামেডান স্পোর্টিংও তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে দেখিয়েছে, যদিও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গত মরসুমের আইলিগ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার কাশী এফসিও বাংলাকেই হোম হিসেবে বেছে নিয়েছে। বারাসত ও কল্যাণী স্টেডিয়ামে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে রাজ্যের অন্য প্রান্তেও আইএসএলের স্বাদ পৌঁছে যাবে।
SIR-এর শুনানিতে ডাক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে, উঠছে প্রশ্ন
কলকাতার বাইরে বাকি ক্লাবগুলোও নিজেদের পুরনো হোম গ্রাউন্ডই বজায় রেখেছে। বেঙ্গালুরু এফসি খেলবে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে, কেরালা ব্লাস্টার্স কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এবং মুম্বই সিটি এফসি নামবে মুম্বই ফুটবল অ্যারেনায়। ওডিশা এফসিও শেষ পর্যন্ত আইএসএলে অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে।
তবে আনন্দের মাঝেই রয়েছে অস্বস্তি। লিগ দেরিতে শুরু হওয়ায় আর্থিক চাপ বেড়েছে ক্লাবগুলির উপর। একাধিক দল খেলোয়াড়দের বেতনে কাটছাঁট করেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্কোয়াডেও— তিরি, নোয়া, বোরহা হেরেরা, হামিদ আহদাদের মতো বিদেশি ফুটবলাররা ক্লাব ছাড়ছেন বা লোনে যাচ্ছেন। সম্প্রচারকারী, স্পনসর ও লিগের মেয়াদ নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও চারটি ক্লাবের উপস্থিতিতে বাংলা যে এ বার আইএসএলের হৃদস্পন্দন— তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।









2 thoughts on “চার ক্লাব, এক রাজ্য: ISL 2026-এ ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা”