২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ লিগের মঞ্চে শিরোপা জিতে ইস্টবেঙ্গল (ISL Champion 2026)। এই সাফল্যের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিলেন ক্লাবের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল লড়াই, দীর্ঘ অপেক্ষা, ক্লাবের পুনর্জাগরণ এবং যাঁরা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
(ISL Champion 2026) খেতাব জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেই দেবব্রত সরকার প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করেন। তাঁর কথায়, “২২ বছর ধরে ইস্টবেঙ্গল কোনো ট্রফি জেতেনি— এই ব্যাখ্যা ঠিক নয়। আমরা লিগ টাইটেল পাইনি, কিন্তু এই সময়ে ১১টি কলকাতা ফুটবল লিগ, ৩টি সুপার কাপ, ৪টি ফেডারেশন কাপ এবং ২টি শিল্ড জিতেছি। তাই ট্রফিহীন ছিলাম— এমনটা বলা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘ লড়াই রয়েছে। “Everything is fight— সবটাই সংগ্রামের ফল।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন এই জয়ের সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন সমর্থকেরা। “ইংল্যান্ডের আর্সেনাল ২০০৪ সালে শেষবার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাফল্য পেয়েছিল, আমরাও সেই সময়ের পর অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে।”
দেবব্রত সরকারের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইমামি গ্রুপের ভূমিকা। তিনি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান ইমামি গ্রুপের কর্ণধার ও চেয়ারম্যান আদিত্য আগরওয়াল, মনীশ আগরওয়াল, বিভাস এবং সন্দীপ গোয়েঙ্কাকে। তাঁর মতে, ক্লাব যখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁদের সমর্থন এবং বিনিয়োগ ইস্টবেঙ্গলকে আবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
তিনি জানান, দু’বছর আগেই এক ক্লাব অনুষ্ঠানে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে দুই বছরের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গল আইএসএল জিতবে। তাঁর দাবি, সেই বিশ্বাসই আজ বাস্তব হয়েছে (ISL Champion 2026)। তিনি আরও বলেন ,”আজকে সাড়ে চারটে নাগাদ সকল কর্মী ও সমর্থকদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, পুরো দল উপস্থিত থাকবে AIFF আমদেরকে ইন্ডিভিজুয়াল প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউট করবে। এই মুহূর্ত উপভোগ করুন।”
তবে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কাঠামো বা অন্য কোনও বিতর্কিত প্রসঙ্গে তিনি মুখ খুলতে চাননি। শুধু বলেন, “ইস্ট বেঙ্গল নিজের পরিচয় নিয়েই জিতেছে। আজ বিতর্ক নয়, এই মুহূর্ত উপভোগ করার দিন।”
(ISL Champion 2026) এই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করেন গত ১০০ বছরে ক্লাবের জন্য জীবন, শ্রম এবং আবেগ উৎসর্গ করা অসংখ্য মানুষকে। বিশেষভাবে স্মরণ করেন জীবন দা, পল্টু দা, স্বপন দাদের মতো বহু পরিচিত মুখকে। পাশাপাশি কিংবদন্তি সুভাষ ভৌমিককে প্রতিদিন মনে পড়ার কথাও বলেন।
অন্যদিকে, ইমামি গ্রুপের কর্ণধার আদিত্য আগরওয়াল সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “আমরা খুব খুশি। এই সাফল্য সমর্থক, কোচ এবং পুরো দলের।”
তবে ভবিষ্যতে ইমামি-ইস্ট বেঙ্গল সম্পর্ক কিংবা কোচ অস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। আপাতত লাল-হলুদ শিবিরে উদযাপনের সুরই সবচেয়ে জোরালো।

