শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থেমে গেল ২২ বছরের অপেক্ষা। তারপরই শুরু হলো লাল-হলুদের (East Bengal FC) আবেগের বিস্ফোরণ। গ্যালারি আর মাঠের দূরত্ব মুহূর্তে মুছে গেল— সমর্থকেরা বেড়া টপকে নেমে এলেন মাঠে, ফুটবলারদের জড়িয়ে উদযাপন শুরু হলো। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেও পরে RAF নেমে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই নাম— ইস্টবেঙ্গল, নতুন ISL চ্যাম্পিয়ন।
কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতে ইতিহাস গড়ল লাল-হলুদ। একইসঙ্গে শেষ হলো জাতীয় লিগ জয়ের ২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। ২০০৩-০৪ মরশুমের পর আর জাতীয় লিগ ঘরে তোলা হয়নি। নাম বদলেছে, ফরম্যাট বদলেছে, কোচ বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে— কিন্তু স্বপ্নটা থেকে গিয়েছিল। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন অস্কারের দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ দিয়ে শুরু করলেও দ্রুত বোঝা যায় ইন্টার কাশী সহজে জায়গা ছাড়বে না। ৬ মিনিটেই বিপিন সিংয়ের কর্নার থেকে বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি হয়, কিন্তু গোল আসেনি।
তারপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ১৫ মিনিটে। ডেভিডের বাড়ানো বল থেকে সামনে দাঁড়িয়ে অসাধারণ ফিনিশ করেন আলফ্রেড। গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। গোল খাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারায়, রক্ষণেও দেখা যায় ফাঁক। ২৩ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ইউসেফ এজ়েজারি। প্রথমার্ধের শেষে ১-০ পিছিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-হলুদ।
শেষ কবে ন্যাশনাল লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল? কী হয়েছিল ফলাফল? ফিরে দেখুন ২২ বছর আগের ঘটনা
কিন্তু চ্যাম্পিয়ন দলের গল্প লেখা হয় দ্বিতীয়ার্ধে।
৫০ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে আনোয়ার আলির বাড়ানো বল ধরে ইউসেফ এজ়েজারি একাই গোলের রাস্তা বানিয়ে ফেলেন। গোলকিপারকে কাটিয়ে, দুই ডিফেন্ডারের চাপ সামলে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে সমতা ফেরান। কিশোরভারতী তখন নতুন করে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
এরপর শুরু হয় আক্রমণের ঝড়। বদলি, ছন্দ পরিবর্তন— সবকিছু কাজে লাগায় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) । ৭৩ মিনিটে আসে মরশুম বদলে দেওয়া গোল। ডান দিক থেকে বিপিন সিংয়ের ক্রস ধরে মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নেন মহম্মদ রশিদ। অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে চিপ করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। ২-১। স্টেডিয়াম তখন বিস্ফোরিত।
শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেনি ইস্টবেঙ্গল। নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই ধরে রাখে লিড। ম্যাচ শেষে সরকারি হিসেবে দর্শক ছিলেন ৮,১১২ জন— কিন্তু আবেগের পরিমাণ সংখ্যার অনেক বাইরে। অন্য ম্যাচে মোহনবাগান জিতলেও গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল।
২২ বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা, ট্রফিহীন মরশুম, হতাশা আর প্রতিশ্রুতির শেষে অবশেষে লাল-হলুদের (East Bengal FC) হাতে জাতীয় লিগের মুকুট। এই রাত শুধু ট্রফি জয়ের নয়— এই রাত ফিরে পাওয়ার, বিশ্বাসের, আর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের বহু বছরের জমে থাকা বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসের।
তালা ঝুলল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে, দখলমুক্তির পথে ঐতিহ্যের মাঠ- ফিরবে কি সেই পুরনো দিন?












2 thoughts on “২২ বছরের অপেক্ষার অবসান, পিছিয়ে থেকেও প্রত্যাবর্তন, ISL চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল — আবেগে ভাসল কিশোরভারতী”