যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন লিওনেল মেসি, ঠিক সেই মাঠেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিল স্পেন (Spain World Cup Champions 2026)। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতল লা রোজা।
ম্যাচের আগে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পস ট্রফি হাতে তুলে ধরলেও শেষ পর্যন্ত উৎসব হয়েছে স্পেন শিবিরে। কিক-অফের আগে আন্দ্রে ইনিয়েস্তার হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি মাঠে আনা যেন নতুন প্রজন্মের স্পেনকে আরও অনুপ্রাণিত করে।
মেসিকে আটকে স্পেনের নিখুঁত পরিকল্পনা
পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে ফাইনালে তাঁকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। লা লিগায় দীর্ঘদিন খেলার সুবাদে মেসির শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের ধারণা ছিল স্পষ্ট। কড়া মার্কিংয়ে মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজকে পুরো ম্যাচেই সুযোগ তৈরি করতে দেওয়া হয়নি। (Spain World Cup Champions 2026)
একতরফা দাপট স্পেনের
পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ম্যাচে কতটা আধিপত্য ছিল স্পেনের।
- বল দখল: স্পেন ৬৫%, আর্জেন্টিনা ৩৫%
- মোট পাস: স্পেন ৭৬২, আর্জেন্টিনা ৩৫৮
- লক্ষ্যে শট: স্পেন ১২, আর্জেন্টিনা ০
৪-২-৩-১ ফরমেশনে নিজেদের পরিচিত টিকি-টাকা ফুটবল খেলেছে স্পেন। অন্যদিকে ৪-৪-২ ফরমেশনে নামা আর্জেন্টিনা আক্রমণে কার্যত অকার্যকর ছিল।
ইয়ামালের জাদু
১৯ বছর আগে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি। সেই ইয়ামালই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখালেন। ম্যাচ জুড়ে তাঁর ড্রিবলিং, গতি ও সৃজনশীলতা আর্জেন্টিনা রক্ষণকে একাধিকবার বিপদে ফেলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম সেরা তরুণ পারফরম্যান্সও গড়েছেন তিনি।
লাল কার্ডে ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা
ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। একবার নিকো উইলিয়ামসের গোল ফাউলের কারণে বাতিল হলেও চাপ অব্যাহত থাকে। (Spain World Cup Champions 2026)
অতিরিক্ত সময়ে এল স্বপ্নভঙ্গের গোল
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস বল নিয়ন্ত্রণ করে ফেরান তোরেসকে ব্যাকপাস দেন। তোরেসের জোরালো শটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জিওভান্নি সিমিওনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে টাইব্রেকারে যাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পারফরমার
- ফেরান তোরেস – অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল
- লামিন ইয়ামাল – ম্যাচসেরা ড্রিবলিং ও আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় হুমকি
- এমিলিয়ানো মার্টিনেজ – নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১১টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের যৌথ সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড স্পর্শ
- লিওনেল মেসি – স্পেনের কড়া মার্কিংয়ে কার্যত নিষ্প্রভ
- এনজো ফার্নান্দেজ – লাল কার্ড দেখে দলকে ১০ জনে নামিয়ে দেন
স্পেনের এই জয় শুধু একটি বিশ্বকাপ শিরোপা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের ফুটবলের উত্থানের প্রতীক। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার।











1 thought on “বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের রাজত্ব, মেসিকে থামিয়ে ১৬ বছর পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন”