পুজোর আগে চিনির বাজারে স্বস্তির খবর। বাড়তে চলেছে চিনির জোগান। দেশে আরও ২.৫ লক্ষ টন সাদা চিনি বিক্রি করতে প্রস্তুত ভারতীয় চিনির কারখানাগুলি। সরকারের একাধিক পদক্ষেপের জেরে ইতিমধ্যেই কমেছে চিনির দাম। শ্রী রেণুকা সুগার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা CEO সুশীল কুমার এই তথ্য জানিয়েছেন।(Sugar Supply)
বাজারে আসবে ২.৫ লক্ষ টন চিনি
নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)-এর একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সুশীল কুমার জানান, অ্যাডভান্স লাইসেন্সিং স্কিম (ALS)-এর আওতায় শোধন করা প্রায় ২.৫ লক্ষ টন সাদা চিনি দেশের বাজারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতে শ্রী রেণুকা সুগার্স-সহ দু’টি চিনি শোধনাগার রয়েছে। তারা ALS-এর আওতায় অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। পরে তা শোধন করে সাধারণত বিদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু গত মাসে কেন্দ্র এই চিনি দেশের বাজারে বিক্রির নির্দেশ দেয়। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। (Sugar Supply)
কমেছে চিনির দাম
সুশীল কুমারের দাবি, সরকারি পদক্ষেপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। দেশের বাজারে মিল থেকে সরাসরি বিক্রি হওয়া চিনির দাম এখন কেজি প্রতি প্রায় ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা। আমদানি করা চিনির আনুমানিক খরচ যেখানে কেজি প্রতি ৫০ টাকা। ফলে দেশীয় বাজারে দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। (Sugar Supply)
শুল্ক ছাড়ে আমদানিও
চিনির জোগান আরও বাড়াতে সরকার ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্ক ছাড়াই আমদানির অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি বড় ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে কতটা চিনি মজুত রাখা যাবে, সেই সীমাও আরও কড়া করা হয়েছে। এর আগে চিনির রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। সরকারের বক্তব্য, দেশে পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। কিছু চিনি কল ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে কেন্দ্র।
উৎপাদনের পূর্বাভাস কমেছে
তবে ২০২৫-২৬ বছরে দেশের চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়ে ৩০৬ লক্ষ টন করেছে সরকার। আগে এই উৎপাদন ৩৪৩ লক্ষ টন হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। দেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ২৮০ থেকে ২৮৫ লক্ষ টন।
এই পরিস্থিতিতে কারখানাগুলি থেকে ২.৫ লক্ষ টন চিনি এবং শুল্কমুক্ত আমদানির ১০ লক্ষ টন বাজারে এলে পুজোর আগে জোগান বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। (Sugar Supply)












