জমি দখলের অভিযোগ জানাতে এ বার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন পূর্ণদাস বাউল এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দুদাস বাউল। পদ্মশ্রী প্রাপকের অভিযোগ, বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর অনুগামীদের মদতে তাঁদের পৈতৃক জমি ও আশ্রম বেআইনিভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের আশ্রমও দখল করে নেওয়া হয়েছে অভিযোগ।
Purna Das Baul: পূর্ণদাস বাউলের কী অভিযোগ?
বুধবার, সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ পুত্রকে সঙ্গে করে হাজির হন পূর্ণদাস বাউল। তাঁর জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ২০০৮ সালে শান্তিনিকেতনে পূর্ণদাস বাউলের পৈতৃক জমি এবং আশ্রম জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়। এ ছাড়াও ইলামবাজারের কাছে তাঁর প্রায় চার বিঘা জমিও তৃণমূলের আমলে দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, জমি ফেরত পাওয়ার আশায় শিল্পী পূর্বে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা সমাধান মেলেনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, নতুন সরকারের ওপর আস্থা রেখে শিল্পী ও তাঁর পরিবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে আসেন। তাঁদের আবেদন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে যেন এই ঐতিহাসিক বাউল আশ্রম ও জমি দ্রুত দখলমুক্ত করা হয়।
যদিও শিল্পীর এই অভিযোগের পর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পূর্ণদাস বাউলের পুত্র দিব্যেন্দু দাসের কথায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেন, “আপনাদের আসার কোনও দরকার ছিল না। আমি বিষয়টা জানি। একবার ফোন করে দিতেন, আমি নিজে ডিএম-এর সঙ্গে কথা বলে নিতাম।”
পদ্মশ্রী প্রাপক শিল্পী পূর্ণদাস বাউল জানান, জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হলে সেখানে বাউল সংস্কৃতির বিকাশ এবং বাউল শিক্ষার প্রসারে একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তুলবেন। এখন প্রশ্ন একটাই। যাঁর নামে বিশ্বমঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল হয়েছে, এখন তিনিই জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সব হারাতে চলেছেন।
যে শিল্পীর নামে বিশ্বমঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল হয়েছে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে কেন বীরভূমের মাটিতেই স্বত্ব হারাতে হবে? আর কেনই বা কলকাতায় এসে নিজের ছাদ হারাতে হবে? সেই আক্ষেপ ও ক্ষোভের কথা বিস্তারিত জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চান পূর্ণদাস বাউল। এখন প্রশাসনিক প্রধানের হস্তক্ষেপে এই আন্তর্জাতিক শিল্পীর সমস্যার কতটা কী সমাধান ঘটে, সেদিকেই তাকিয়ে সংস্কৃতি মহল।









