ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষস্তরের লিগ ফের চালু করতে তৎপর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। ফেডারেশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগ শুরুর দিন হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে। সময় কম, তাই দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর উপর জোর দিচ্ছে AIFF।
AIFF-এর এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, লিগ আয়োজন করা এখন নিশ্চিত। তবে লিগের চূড়ান্ত কাঠামো কেমন হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। তাঁর কথায়, “লিগ চালু রাখা জরুরি। ধারাবাহিকতা না থাকলে ভারতীয় ফুটবল বড় ধাক্কা খাবে। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থেই আমাদের লিগ করতে হবে।”
“Save Indian Football”-উদ্যোগ: ফিফার দ্বারস্থ সুনীল-গুরপ্রীতরা
সূত্রের খবর, সোমবার ফিনান্স কমিটির বৈঠক ও নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের পর বিষয়টি সাধারণ সভায় তোলা হবে এবং ক্রীড়ামন্ত্রক ও আদালতকেও রিপোর্ট দেওয়া হবে। AIFF জানিয়ে দিয়েছে, সবদিক থেকেই তারা প্রস্তুত এবং দেশের শীর্ষ লিগ যে হতেই হবে, সে বিষয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ক্লাবগুলির কাছে ভবিষ্যৎ রূপরেখা পাঠিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ফের ফুটবল ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। AIFF নিজে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বললেও, বাকি অর্থের বড় অংশ ক্লাবগুলিকেই বহন করতে হবে।
তবে এখানেই সমস্যার শুরু। ক্লাবগুলির মধ্যে এখনও ঐক্যমত্য তৈরি হয়নি। অনেক ক্লাব জানিয়েছে, জানুয়ারির মধ্যেই যে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা জোগাড় করা তাদের পক্ষে কঠিন। আবার কিছু ক্লাব রেলিগেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং বাড়তি আর্থিক ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদার পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে AIFF-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ঐকমত্য তৈরি করা। ফেডারেশনকেও ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলতে হবে, কারণ দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় খেলোয়াড়দের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।
AIFF কর্তার বক্তব্য, “আমরা জানি, খেলোয়াড়দের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। লিগ না হলে ভারতীয় ফুটবল অন্তত দশ বছর পিছিয়ে যাবে।”
সব মিলিয়ে AIFF ও ক্লাবগুলির হাতে সময় বড়জোর এক সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যেই সমাধান না হলে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি লিগ শুরু করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখন সময়ের সঙ্গে দৌড়—ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎই যার মূল বাজি।












