শেষ বাঁশি বাজতেই কিশোরভারতী আর দিল্লির দুই প্রান্তে তৈরি হলো দুই বিপরীত আবেগের ছবি। একদিকে জিতে মাঠ ছাড়ল মোহনবাগান, অন্যদিকে উৎসবে মেতে উঠল ইস্টবেঙ্গল। ২০২৫-২৬ মরশুমের ISL-এ নাটকীয় শেষ দিনে ২-১ গোলে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে হারিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না মোহনবাগান (Mohun Bagan SG)। ২৬ পয়েন্টে মরশুম শেষ করলেও গোলপার্থক্যে পাঁচ গোলে পিছিয়ে থাকায় রানার্স-আপ হয় মেরিনার্সরা। ২২ বছর পর শিরোপা জিতে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
এই মরশুমের ISL ভারতীয় ফুটবলে আলাদা করে মনে রাখা হবে আরেকটি কারণে। শেষ ম্যাচের আগেও দুইয়ের বেশি দল শিরোপার দৌড়ে ছিল— এমন ঘটনা ISL-এ খুব কমই দেখা যায়। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমীকরণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকায় উত্তেজনা ছিল চরমে। লিগের শেষ দিনেই নির্ধারিত হয়েছে চ্যাম্পিয়নের নাম।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নামে মোহনবাগান (Mohun Bagan SG)। সের্জিও লোবেরা প্রথম একাদশে একসঙ্গে নামান জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোস এবং জেমি ম্যাকলারেনকে। দুই উইংয়ে ছিলেন লিস্টন কোলাসো ও মনবীর সিং। লক্ষ্য ছিল বড় ব্যবধানে জিতে চাপ তৈরি করা।
প্রথমার্ধে বল দখল ও সুযোগ— দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল মোহনবাগান (Mohun Bagan SG)। কামিংস, মনবীর, সাহাল— একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের মুখ খোলা যায়নি। দিল্লির গোলকিপার নোরা ফার্নান্দেস একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন। মনবীরের হেড পোস্টে লাগে, কামিংসের সুযোগ নষ্ট হয়, আর শুভাশিস বসুর একাধিক নিখুঁত ক্রসও কাজে লাগাতে পারেননি আক্রমণভাগ।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র আরও নাটকীয় হয়। ৬৩ মিনিটে ক্ল্যারেন্স স্যাভিও ফের্নান্দেসের হেডে পিছিয়ে পড়ে মোহনবাগান (Mohun Bagan SG)। তখন কার্যত শিরোপার স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে দল ভেঙে পড়েনি। লিস্টনের দারুণ আক্রমণ থেকে ৯০ মিনিটে হেডে সমতা ফেরান মনবীর সিং। যখন মনে হচ্ছিল ড্র নিয়েই শেষ হবে ম্যাচ, তখনই আসে শেষ অধ্যায়। অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে গোল করেন জেমি ম্যাকলারেন। গোলের পর জার্সি খুলে উদযাপন— যেন শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস না হারানোর প্রতীক। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন।
তবে সেই জয় শিরোপা এনে দিতে পারেনি। কারণ অন্য ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ২-১ ব্যবধানে ইন্টার কাশীকে হারিয়ে দেয়। ফলে পয়েন্ট সমান হলেও গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে মরশুম শেষ করতে হয় মোহনবাগানকে।
শিরোপা না এলেও শেষ ম্যাচে মোহনবাগান (Mohun Bagan SG) দেখিয়ে দিল— শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই থামে না। আর সেই লড়াইয়ের মানসিকতাই হয়তো আগামী মরশুমের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

