Site icon Hindustan News Point

ইয়ামালদের তিকিতাকা vs সুপিরিয়র রোনাল্দো, শেষ ১৬-র লড়াইয়ে শেষ হাসি কার?

Portugal vs Spain

(Portugal vs Spain) বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই ভুলের কোনও ক্ষমা নেই। নরওয়ের কাছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায় ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, এই বিশ্বকাপে অতীতের গৌরবের কোনও মূল্য নেই। এই পর্বে শুধু ট্রফির ক্ষুধা, মানসিক দৃঢ়তা এবং মুহূর্তকে কাজে লাগানোর ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে ভাগ্য। আর সেই কারণেই মঙ্গলবারের (Portugal vs Spain) পর্তুগাল বনাম স্পেন ম্যাচ শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি দুই প্রজন্মের, দুই দর্শনের এবং দুই স্বপ্নের সংঘর্ষ। একদিকে হয়তো ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালদের নতুন স্পেনের বিশ্বজয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লড়াই।

আর্লিংটনের মাঠে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল এবং স্পেন। (Portugal vs Spain) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করার পর এবার লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল। কিন্তু এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধুমাত্র নকআউটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, পর্তুগালের কাছে এটি হতে পারে কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, আর স্পেনের কাছে এটি হতে পারে তাদের নতুন “তিকি-তাকা” শক্তির আরেকটি প্রমাণ।

রোনাল্দোর শেষ ম্যাচ? আবেগে ভাসছে পর্তুগাল

৪১ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তিনটি গোল করেছেন তিনি। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোলের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নকআউট পর্বে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন।

রোনাল্দোর নেতৃত্বে রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল এখনও বিশ্বাস করে, অসম্ভব বলে কিছু নেই। তবে এই ম্যাচে হার মানেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে রোনাল্দোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। সেই আবেগই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।

তিকি-তাকার নতুন সংস্করণে আত্মবিশ্বাসী স্পেন

অন্যদিকে স্পেন এসেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখনও পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে একটিও গোল হজম করেনি। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে শেষ ষোলো পর্যন্ত চার ম্যাচে চারটি ক্লিন শিট রেখেছে তারা। শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে লা রোজা।

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবারও ট্রফির অন্যতম দাবিদার। বল দখল, ছোট পাসের খেলা এবং দ্রুত ট্রানজিশনের মিশেলে তাদের আধুনিক তিকি-তাকা ফুটবল প্রতিপক্ষকে দম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

স্পেনের আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই লামিন ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে ফিরে আসা এই তরুণ তারকা ইতিমধ্যেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। মাঝমাঠে পেদ্রির সৃজনশীলতা এবং অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবালের গোল করার দক্ষতা স্পেনকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেদ্রির পাসিং এবং ইয়ামালের শক্তি, প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা পর্তুগালের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

গরুর হার্ট থেকে লিভার! আর্লিং হাল্যান্ডের ‘বিস্ট ডায়েট’ শুনে অবাক হবেন

ইতিহাস বলছে, স্পেন এগিয়ে; স্মৃতি বলছে, পর্তুগালকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না

(Portugal vs Spain) পরিসংখ্যা বলছে ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। স্পেন জিতেছে ১৮ বার আর পর্তুগাল ৭ বার, ড্র হয়েছে ১৬ বার। তাই বলাইবাহুল্য এই ম্যাচ হতে চলেছে উত্তেজনার। বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দেয়।

তবে সাম্প্রতিক স্মৃতি পর্তুগালের পক্ষেই। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল পর্তুগাল, যারা প্রথম দেশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সেই ট্রফি জেতে।

গোল বনাম ডিফেন্স: কোন শক্তি জিতবে?

চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগাল চার ম্যাচে আট গোল করেছে। ব্রুনো ফার্নান্ডেস, রোনাল্দো এবং নুনো মেন্ডেসের সমন্বয়ে আক্রমণভাগ যথেষ্ট কার্যকর। তবে রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। কঙ্গোর বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানো এবং কয়েকটি ম্যাচে অপ্রয়োজনীয় চাপ নেওয়া সেই ইঙ্গিতই দেয়।

অন্যদিকে, স্পেনও আট গোল করলেও তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগ। চার ম্যাচে শূন্য গোল হজম করার নজির এই বিশ্বকাপে অন্য কোনও দল গড়তে পারেনি। ফলে এই ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণ বনাম সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই।

কোচদের দাবার ছকও হতে পারে নির্ণায়ক

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বড় ম্যাচে আক্রমণাত্মক কৌশলের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে গত কয়েক বছরে জাতীয় দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন এবং ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

(Portugal vs Spain) এই ম্যাচে কৌশলগত লড়াইও কম গুরুত্বপূর্ণ হবে না। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, প্রেসিংয়ের তীব্রতা এবং কাউন্টার অ্যাটাকের কার্যকারিতা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

নজরে যাঁরা

পর্তুগাল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো, ব্রুনো ফার্নান্ডেস, নুনো মেন্ডেস

স্পেন: লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, পেদ্রি

বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আজ শুধু একটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। (Portugal vs Spain) একদিকে অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং রোনাল্দোর শেষ স্বপ্ন; অন্যদিকে তরুণ শক্তি, তিকি-তাকার জাদু এবং স্পেনের অটুট আত্মবিশ্বাস। পর্তুগাল জানে, এটাই হয়তো রোনাল্দোর শেষ সুযোগ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার। স্পেন জানে, ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ওঠার রাস্তা এই ম্যাচ থেকেই শুরু হতে পারে। তাই আর্লিংটনের ম্যাচ হতে চলেছে — ইতিহাস, আবেগ, কৌশল এবং ট্রফির ক্ষুধায় উন্মত্ত দুই ফুটবল সাম্রাজ্যের মুখোমুখি সংঘর্ষ।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় নেইমারের


Exit mobile version