আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ৮৯ রান করা মুখের কথা নয়। ম্যাচ শেষে তাই সঞ্জু স্যামসনের মাথাতেই ম্যান অব দ্যা ম্যাচের শিরোপা উঠল। কিন্তু নিজের অবদানকে পিছনে রেখে জশপ্রীত বুমরাকেই ম্যাচের নায়ক মনে করছেন সঞ্জু। স্যামসনের মতে, ১৮তম ওভারে বুমরার অসাধারণ বোলিংই শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় নিশ্চিত করেছে।
সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড় বানিয়ে এই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সঞ্জু স্যামসন। আগের ম্যাচে ইডেনেও ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এদিনও শতরানের অনেকটা কাছে এসেও ৮৯ রানে আউট হলেন। তবে ওপেনিং করতে নেমে টিমকে তখন তিনি একটি মজবুত জায়গায় দাঁড় করিয়ে ফিরছিলেন। সঞ্জু, ঈশান কিষান, শিবাম দুবেদের সৌজন্যে ২০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর বোর্ডে তখন ২৫৩ রান।T20 World Cup
কিন্তু প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের সামনে এই রানও কম মনে হচ্ছিল। তবে দলে যদি জশপ্রীত বুমরার মতো এক বিশ্বমানের বোলার থাকে তাহলে আর কোন ভয়কেই ভয় মনে হয় না। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে যখন মনে হচ্ছিল বেথেল এবং উইল জ্যাকস এর জুটি ভারতের হাত থেকে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে ঠিক সেই সময় মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ালেন সেই বুমরা। সেমিফাইনালে চাপের মধ্যে শেষের দিকে ওভারে বল করতে নেমেও ছ’টা বলই যে সঠিক জায়গায় রাখা যায় তারই একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলেন তিনি। বলা যায় এটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর হার্দিক ও শিবম দুবের দুটি ওভারে ব্যাট চালালেও লক্ষ্যে কাছে পৌঁছতে পারল না হ্যারি ব্রুকের ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শেষে পুরস্কার মঞ্চে এসে সঞ্জু স্যামসন জানালেন, তিনি এখানে দাঁড়িয়েই থাকতেন না যদি না বুমরা এরকম দুরন্ত বোলিং করতেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রমাণ করে দিলো তিনি শুধু নিজের জন্য খেলেন না খেলেন দেশের জন্য, খেলেন গোটা দলের জন্য। এই সঞ্জুই সিরিজের শুরুতে প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। যে ম্যাচগুলোতে সুযোগ পাচ্ছিলেন সেগুলোতেও বড় রান খেলতে গিয়ে আউট হচ্ছিলেন। কিন্তু ইডেন গার্ডেন্সের সেই রাত সঞ্জুকে আবারও ভারতীয় দলের নায়ক বানিয়ে দিলো। আর তারপর গতকালের এই ৮৯ রান। কিন্তু নিজের ইনিংস নিয়ে বেশি কিছু বলতে নারাজ সঞ্জু।তিনি জানান, তাঁর মনে হয়েছিল ইডেন থেকেই ছন্দে আছেন এই ছন্দকে যথা সম্ভব কাজে লাগাতে হবে সেমিফাইনালেও। আর তেমনটাই করেও দেখিয়েছেন তিনি কিন্তু তবু নিজেকে ম্যচের সেরা মনে করতে চান না।
তাই ম্যাচ শেষে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্জু স্যামসন বলেন, এই জয়ের কৃতিত্ব একা তাঁর নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, বুমরার বোলিং না হলে হয়তো ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত। স্যামসনের কথায়, ‘বিশ্বের সেরা বোলারদের মধ্যে একজন বুমরা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি যেভাবে বল করেছেন, সেটাই ভারতের জয়ের মূল কারণ’।T20 World Cup
নিজের জন্য নয় বরং দলের জন্য খেলার এই মনোভাব ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখেই বিশ্বাস জাগে আবারো এক বিশ্বকাপ জেতার। এখন অপেক্ষা সেই স্বপ্নের রাতের। যেদিন এই সঞ্জু, বুমরাদের হাত ধরেই ভারত আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে নেবে।











