আজ বিজয়া দশমী। উমার ঘরে ফেরা পালা। আকাশে-বাতাসে বাজছে বিজয়ার সুর। সকাল থেকেই বিশেষত বাড়ির পুজো গুলির নিরঞ্জন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও সহজ করে তুলতে নয়া উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বিসর্জন ঘাটে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি বিশেষ কনভেয়র সিস্টেম। এই আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি, ধর্মীয় রীতি, ঐতিহ্য এবং প্রতিমার প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে (Siliguri)।
Siliguri: নিরঞ্জনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
জেলাশাসক হরিশংকর পানিককর (Siliguri) জানান, “ইতিমধ্যেই এই কনভেয়র সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোটা প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রায় ২০০-র বেশি প্রতিমা রয়েছে। সবই এই ভাবেই নিরঞ্জন হবে। যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে আমরা সেই দিকেও নজর দিচ্ছি। ছোটস বড় সব প্রতিমাই এইভাবে নিরঞ্জন হবে।”
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রচলিত ধর্মীয় রীতির মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করাই শিলিগুড়ি পুরনিগমের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে, রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “নদীতে মানুষ যাবে এটা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। কিন্তু কিছু বিধি-নিষেধ থাকবে। আমরা চাইনা কেউ সমস্যায় পড়ুক। ঠাকুর ভাসান দেওয়ার পর বাঁশের কাঠামো নদী থেকে তুলে ফেলতে হবে। সকলে মিলে মিশে কাজ করতে হবে”।
উল্লেখ্য,সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় এবং গোটা প্রক্রিয়া নিরাপদে সম্পন্ন করা যায়, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুরনিগম। একইসঙ্গে নিরঞ্জনের মতো ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ায় যাতে কোনওভাবেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত না লাগে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই উদ্যোগের পিছনে।









1 thought on “আনন্দের শেষে বিষাদ, মা উমাকে বিসর্জন, প্রতিমা নিরঞ্জনে আধুনিক প্রযুক্তি শিলিগুড়িতে”
Comments are closed.