২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে শাসক–বিরোধী সংঘাত। দু’দিনের বঙ্গ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “বাংলা এবার চাই-ই চাই”। তাঁর নতুন স্লোগান, “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার”, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আর এই স্লোগানকেই হাতিয়ার করে নদিয়ার চাপড়ায় রোড শো থেকে পাল্টা আক্রমণে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee।
চাপড়ার জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, “আমি একমত—পাল্টানো দরকার। পরিবর্তন দরকার। কিন্তু পরিবর্তন হবে আপনাদের।” বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর সংযোজন, “যাঁরা আগে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সভা শুরু করতেন, এখন তাঁরা ‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা’ বলছেন।” মোদীর বক্তব্যের পাল্টা জবাবে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি আসলে বাংলার মানুষকে শাস্তি দিয়ে ‘পাল্টাতে’ চাইছে—১০০ দিনের কাজের টাকা, জল, আবাস যোজনার অর্থ আটকে রেখে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিষেকের ‘রণ সংকল্প সভা’ এখন গোটা বাংলা জুড়ে। রানাঘাটের পর চাপড়ায় রোড শো করে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনা এবং এসআইআর (SIR) ইস্যুতে বিজেপি ও কমিশনকে একহাত নেন। এসআইআর প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “অমর্ত্য সেনকে নোটিস, দেবকে হিয়ারিং—রবীন্দ্রনাথ বা শ্রীচৈতন্য বেঁচে থাকলে তাঁদেরও নোটিস দিত।” কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এসআইআর করুন না, কত দম দেখি। একমাত্র বাংলা এর বিরুদ্ধে লড়ছে।”
রাজনৈতিক হিসাবেও আক্রমণ শানান অভিষেক। ২০২১ সালের বিধানসভায় কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের ফল ছিল ৭-১। এবার সেই জেলায় ৮-০ করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “গোটা বাংলায় বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামিয়ে আনার দায়িত্ব আমার।” গত লোকসভা নির্বাচনে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করা অমৃতা রায়ের প্রসঙ্গ টেনে মোদীর প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি—ইডি-র বাজেয়াপ্ত টাকা ফেরানোর কথা বললেও মানুষ আজও এক টাকাও পায়নি বলে দাবি।
SIR-এ হয়রানির আভিযোগে অবরোধ, জায়গায় জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
চাপড়ার সভায় আবাস যোজনার প্রসঙ্গেও বড় ঘোষণা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকার ২০ লক্ষ মানুষকে মাথার ছাদের ব্যবস্থা করে দেবে এবং টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।
সব মিলিয়ে, মোদীর ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগানের জবাবে অভিষেকের আক্রমণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—২০২৬-এর আগে বাংলার রাজনীতি আরও তীব্র সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।










