ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) মাঝে কলকাতায় এসেই রাজ্যে সরকার গড়া নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ‘প্রত্যয়ী’ সুর শোনালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সঙ্গে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Abhishek Banerjee)।
রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী ইতিহাস তুলে ধরে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে জয়ের ব্যাপারে ফের আত্মবিশ্বাসী শাহর দাবি, ধারাবাহিক ভাবে বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়েছে, আর সেই ধারাবাহিকতার জোরেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতায় সরকার গড়বে বিজেপি (BJP)।
শাহ বলেন, “২০১৪ সালে বাংলায় বিজেপির ভোট ছিল ১৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা নেমে গিয়েছিল ১০ শতাংশে। কিন্তু ২০১৯ সালে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮টি লোকসভা আসন জিতি। ২০২১ সালে বিধানসভায় পাই ৩৮ শতাংশ ভোট এবং ৭৭টি আসন। ২০২৪ সালে ৩৯ শতাংশ ভোট নিয়ে ১২টি আসন এসেছে। এই ধারাবাহিকতা বলেই দিচ্ছে, ২০২৬ সালে বিজেপিই সরকার গড়বে।”
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফের ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “এখন দেখছি তোষণের রাজনীতির ক্ষত ঢাকতে মলম লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু কোনও মলমই আর কাজ করবে না।”
জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস: মুখ্যমন্ত্রী
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন শাহ। তাঁর দাবি, “মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা, কুণাল ঘোষ— একের পর এক তৃণমূল নেতাকে জেল খাটতে হয়েছে। তার পরেও কী ভাবে বলা হয়, রাজ্যে দুর্নীতি নেই?”
রাজ্যে বড় শিল্পের অভাব নিয়েও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করেন শাহ। অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এখন বাংলায় কামানোর অধিকার একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।”
এদিন অমিত শাহের পাশে শমীক ভট্টাচার্যও বসে ছিলেন। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শাহ বলেন, “আপনারা দীর্ঘ সময় কংগ্রেসকে দিয়েছেন, ৩৪ বছর বামেদের, ১৫ বছর মমতাজিকে দিলেন। আমার অনুরোধ, এ বার মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার বানান, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিন। সোনার, গৌরবের বাংলা গড়ে দেব।”
শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের মূলে রয়েছে এই দুর্নীতি ও তোষণের রাজনীতি। আর সেই কারণেই ২০২৬ সালে বাংলায় ক্ষমতার বদল অনিবার্য।












1 thought on “Amit Shah: ‘তৃণমূল নেতারা জেল খেটেছেন, তারপরও বলছেন দুর্নীতি নেই?’, BJP-কে জিতিয়ে স্বপ্নের বাংলা গড়ার ডাক শাহের”