বারুইপুরকাণ্ডের (Baruipur Case) রুদ্ধশ্বাস মোড়। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে এনকাউন্টার করল পুলিশ। গতকাল রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য অকুস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালায় ধৃত। এরপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতে গুলিবিদ্ধ হয় প্রভাস। ওই অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান নিউজ পয়েন্টকে এক্সক্লুসিভ প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রাক্তন আইপিএস তথা সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর (Baruipur Case)। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে অপরাধীরা ভয়ে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ঠাঁই পেত। এখন পুলিশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে অপরাধীদের মারবে।”
তিনি (Baruipur Case) আরও বলেন, “পুলিশ প্রতিরোধ করতেই পারে। প্রতিরোধ করতে গেলে কেউ যদি মারা যায় সেটাকে সাধারাণ মানুষ একাউন্টার বলে। কিন্তু আমরা একে ‘এনকাউন্টার’ বলি না। আমরা আইনের ভাষায় বলি ‘Right Of Private Defence’। এক্ষেত্রে পুলিশ সেটাই প্রয়োগ করেছে। পুলিশ একদম সঠিক কাজ করেছে। এইটাই অপরাধীদের কাছে বার্তা যাবে। আগের সরকার অপরাধীদের বাঁচাতে চাইত, আড়াল করত। আমরা অপরাধীদের জন্য এমন একটা ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে এমন ঘৃণ্য অপরাধ আর যেন না করে। আগে পুলিশ টেবিলের তলায় লুকাতো, ভয়ে অপরাধীরা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ঠাঁই পেত। এখন পুলিশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে অপরাধীদের মারবে। ধর্ষণ হলো সমাজের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম কাজ। এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের পুলিশ শক্ত হাতে কাজ করবে।”
ঘটনার দিন বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের। গতকাল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসপি অফিসে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এই ঘটনাতেও অভিযুক্তদের খুঁজে উপযুক্ত শাস্তির দেওয়া হবে বলে জানান, মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে বিধায়ক দেবাশিস ধর বলেন, “গণপিটুনির যে ঘটনা ঘটেছে, এই অপরাধও শক্ত হাতে দমন করা হবে। তারাও যদি পুলিশকে আক্রমণ করে পুলিশ কিন্তু এবার কোনও রকম পিছপা হবে না।”
“ও মরেছে, শান্তি পেয়েছি”, বারুইপুরকাণ্ডে অভিযুক্তের মৃত্যুতে মায়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
অন্য দিকে, বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, কবীর মোল্লা নামে ওই অভিযুক্তকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে পাকড়াও করে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ধর্ষণ-খুনের মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।

