মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও ও বিক্ষোভের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkarul Islam Arrest)। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, সেখান দিয়েই পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। এই ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-কে। বুধবার কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে এসআইআর-এর কাজে যাওয়া সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তাঁদের আটকে রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে, যার মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই বিক্ষোভে জনতাকে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মোফাক্কেরুলের। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইক হাতে উত্তেজনাপূর্ণ ভাষণ দিচ্ছেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিচারকদের ঘেরাও করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান মেলেনি। অবশেষে শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, ‘ডি ভোটার ইস্যুতে প্রতিবাদে উপস্থিত থাকার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
উল্লেখযোগ্যভাবে, মোফাক্কেরুল ইসলাম ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে AIMIM প্রার্থী হিসেবে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পেশায় তিনি আইনজীবী এবং কলকাতা হাইকোর্টেও প্র্যাকটিস করতেন।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, এনআইএ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রাথমিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
কালিয়াচক কাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র, আর সেই প্রেক্ষিতেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।








