দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তা কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা হুমকির পর্যায়ে পৌঁছনো উচিত নয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে দলের মহিলা নেত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে মাছের ঝিলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক—সব মিলিয়ে স্থানীয় বিজেপির অন্দরে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। (Debashis Dhar)
যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার ৩ নম্বর খেয়াদহ মণ্ডলের বাসিন্দা তথা বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য এবং জয়নগর লোকসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী সুজাতা মণ্ডলের অভিযোগ, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও বর্তমানে তাঁকে অপমান, হুমকি ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মণ্ডল সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একাধিকবার জেলা নেতৃত্ব ও বিধায়ককে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।(Debashis Dhar)
সুজাতা মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁকে ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁর স্বামীর উপরও হামলার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিধায়ক দেবাশীষ ধরের হয়ে প্রচার করায় এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এই চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি থানার দ্বারস্থও হয়েছেন। (Debashis Dhar)
এদিকে একটি ঝিলে মাছ ধরা ও মাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী সুনীলবাবুর অভিযোগ, ৫৪ জন শ্রমিকের যৌথ উদ্যোগে চাষ হওয়া একটি ঝিলের মাছ নিয়ে বিবাদের জেরে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘দেবাশিস ধরের লোক’ বলে চিহ্নিত করে চুরির অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিজিৎ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। (Debashis Dhar)
সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেবাশিস ধর বলেন, কেউ যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন, তবে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকেও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে। সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম, ফুড প্রসেসিং, কোল্ড চেইন, ই-চার্জিং স্টেশন, এআই ল্যাব, ডেটা সেন্টার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালসহ একাধিক প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উন্নয়নের পথে দলীয় কোন্দল যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে ব্যাপারেও সতর্কবার্তা দেন বিধায়ক। (Debashis Dhar)
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, দলের মধ্যে কোনও অভিযোগ এলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায় যাঁরা নিয়মভঙ্গ করছেন, তাঁদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিজেপি এই ধরনের আচরণকে সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন দেবাশিস ধর। (Debashis Dhar)
আরও পড়ুন :- রাজপুর-সোনারপুরে জল জমা রুখতে মাস্টারপ্ল্যান, কী জানালেন দেবাশিস ধর?

